ডাক্তারদের প্রাইভেট ভিজিট ফি নির্ধারণের দাবীতে ৮ প্রস্তাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬:৫৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সরকারী ডাক্তাদের প্রাইভেট ভিজিট ২০০ টাকা ও বেসরকারী ডাক্তাদের প্রাইভেট ভিজিট ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবীতে ৮টি প্রস্তাবনা উপস্থাপনা করে সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে সিলেট কল্যাণ সংস্থা (সিকস), সিলেট বিভাগ যুব কল্যাণ সংস্থা ও সিলেট প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে। বর্তমানে একজন রোগীকে বেসরকারী চেম্বারে ৬০০-১৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়, যা গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা কষ্টকর। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, বাড়তি ঔষধ দেওয়া ও পাশাপাশি সরকারী হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে আমরা সাধারণ জনগণ বঞ্চিত। সরকারী হাসপাতালে ডাক্তাররা হাসপাতালে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে সময় দেওয়ার ফলে অসচ্ছল রোগীরা বেসরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য। ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখানোর ফি অনেক পরিবারের সামর্থ্যের তুলনায় বেশী হওয়ায় অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব করেন কিংবা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ অবস্থায় জনস্বার্থে ডাক্তারদের প্রাইভেট ভিজিট ফি যুক্তিসংগত ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা মনে করি, চিকিৎসাসেবাকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব করতে সরকারী নীতিমালার মাধ্যমে ডাক্তারদের ভিজিট ফি নির্ধারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে জনস্বার্থে ৮ টি দাবী উল্লেখ করা হয়। যেগুলো হলো-সরকারী ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ভিজিট ফি ২০০ (দুইশত) টাকা ও বেসরকারী ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার ভিজিট ফি ৩০০ (তিনশত) টাকা নির্ধারণ করতে হবে; অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্টের নামে রোগীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর নীতিমালা ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে; সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারদের যথাসময়ে উপস্থিতি, পর্যাপ্ত ঔষধ এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে; নির্ধারিত ভিজিট ফি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ও চেম্বারে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে; রিপোর্ট দেখানোর সময় পূণরায় ভিজিট গ্রহণ বন্ধ করতে হবে; রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় রোধে কার্যকর তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে; মাননীয় মন্ত্রীগণ হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আকস্মিক পরিদর্শন করলে প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হবে; ডাক্তারদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য স্বার্থ বজায় রেখে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক সংগঠন ও নাগরিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সিলেট কল্যাণ সংস্থার কার্যকরী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সিবিযুকস’র বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি দ্বীপক রঞ্জন রায় তালুকদার, সহ-সভাপতি রোকনে আলম চৌধুরী, এম. এ আলী জালালাবাদী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলাদ, সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস, সহ-অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাহেদ আহমদ শান্ত, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ সহিদ চৌধুরী, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সুহেল আলী, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. সেলিম খান, যোগাযোগ ও সমন্বয় সম্পাদক শংকর বিশ্বাস, সহ-সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক ফয়সল আহমদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ কামাল মিয়া, সিলেট মহানগর কমিটির সভাপতি জাকারিয়া মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সাকের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, মহানগর কমিটির সদস্য মো. জুয়েল মিয়া, নেতৃবৃন্দদের মধ্য থেকে দিলীপ আচার্য, হরিমোহন রায়, মো. এমদাদুল হক চৌধুরী মামুন, দবির আহমদ, সুবাব মিয়া, লুৎফুর রহমান লিলু, আব্দুল মন্নান ও তোফায়েল আহমদ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা আজ দুপুরে দিয়েছেন। ওইটা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আমরা পাঠিয়ে দিবো।



