মানববন্ধনে দাবি বাস্তবায়নে আশ্বাস প্রদান সিসিক প্রশাসকের
৩ দফা দাবিতে সিলেটে অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : পুলিশি হয়রানি বন্ধ, পর্যাপ্ত স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং সরকারি ডিউটির নামে গাড়ি আটক বাণিজ্য বন্ধের ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ঐতিহ্যবাহী সিলেট কোর্ট পয়েন্টের সামনে ‘সিলেট জেলা সি.এন.জি চালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও ৭০৭ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহানগর উপ কমিটির সহ সভাপতি এম বরকত আলীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সড়ক পরিবহণ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও ১৪১৮ এর সভাপতি হাজী মঈনুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও ৭০৭ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমদ, ১৪১৮ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, ৭০৭ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজাদ মিয়া, ২০৯৭ এর সিলেট জেলা সভাপতি মতচ্ছির আলী, কার্যকরি সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, ৭০৭ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সভাপতি সুন্দর আলী খান, যুগ্ম সম্পাদক শাহাব উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল আহমদ, ২০৯৭ সহ সভাপতি শাহানুর মিয়া, সাংগঠনিক আবুল হোসেন, সিএনজি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ, কার্যকরি কমিটির সভাপতি জামিল আহমদ লিটন, ৭০৭ এর প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কাওসার আহমদ, আব্দুল মন্নান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ২০৯৭ এর রাইমুল ইসলাম, ৭০৭ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজা আহমদ রাজা, জমির আলী, মুহিবুর রহমান এপল, লিটন আহমদ, সুজন মিয়া, আব্দুল জলিল, রফিক মিয়া, রফিকুল ইসলাম রফিক, ৭০৭ এর বিভিন্ন উপ পরিষদের নেতৃবৃন্দ মুক্তিযোদ্ধা উপ কমিটির সভাপতি আলী আহমদ, কার্যকরি সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জগলু আহমদ, নেছার আহমদ, আলী হোসেন, শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক আনামত হোসেন ফগু, তামাবিল শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম।
এছাড়াও ৭০৭, ২০৯৭, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি সহ অসংখ্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলাজুড়ে ট্রাফিক ও থানা পুলিশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ও মালিকদের ওপর চরম হয়রানি চালাচ্ছে। কোনো স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করেই ‘রং পার্কিং’-এর অজুহাতে ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অঙ্কের জরিমানার মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং গাড়ি রেকার করে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করা হচ্ছে। শহরের বুক চিরে ভূয়া নম্বর প্লেটধারী অবৈধ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম অবাধে চলাচল করলেও ট্রাফিক পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ বৈধ কাগজপত্র ও নিবন্ধিত অটোরিকশাগুলোর ওপরই সব অন্যায়-আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। নয়াসড়ক, চৌহাট্টায় উইমেন্স মেডিকেল কলেজের সামন আলিয়া প্লাজার সামনে চালকদের দীর্ঘদিনের পার্কিং স্থানটি উচ্ছেদ করায় চালকরা বর্তমানে চরম মানবিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সমাবেশ থেকে অটোরিকশা নেতারা ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো- ট্রাফিক ও থানা পুলিশের অন্যায্য হয়রানি, অতিরিক্ত জরিমানার মামলা ও রেকার বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; অটোরিকশার সংখ্যার দিক বিবেচনা করে পর্যাপ্ত স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পার্কিং স্পেস নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মামলা দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে; সরকারি ডিউটির নামে অটোরিকশা আটকে রেখে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ডিউটিতে নেওয়া গাড়ির জ্বালানি ও চালকের খোরাকি ভাতা দিতে হবে।
মানববন্ধন চলাকালে উপস্থিত থেকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এখন শারদীয় দুর্গাপূজা চলমান। তাই এই দুর্গাপূজা শেষে প্রশাসন সহ সকলকে নিয়ে আলোচনায় বসে শ্রমিকদের যৌক্তিক ৩ দফা দাবির সঠিক সমাধান করা হবে।



