ছাতক কংক্রিট স্লিপার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুলাই ২০২৫, ৩:০০:১২ অপরাহ্ন
সৈয়দ হারুন অর রশীদ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে : বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীন ছাতক কংক্রিট স্লিপারকারখানা ও এর উৎপাদন দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে মাঝে মাঝে উৎপাদন চলে আবার বন্ধ থাকে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলা, জনবল সংকটকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। ছাতক রেলওয়ের অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুইবার কংক্রিট স্লিপার কারখানাটি চালু হয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি চালু হয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্লিপার কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে ২৭ ফেব্রুয়ারী। দ্বিতীয় দফায় গত ৪ মে চালু হয়ে কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় ২৯ মে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছাতক বাজার রেলওয়েতে গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বেশীর ভাগ পদ রয়েছে শূন্য। ওয়েল্ডার গ্রেড-১, লাইনম্যান কাম ওয়্যার গ্রেড-২, সহকারী ল্যাবরেটরী, গাড়ী চালক, টুলকিপার, ট্রাভারসার অপারেটর, স্টোরটেন্ডল, ওয়েল্ডার, কাস্টিং মেশিন অপারেটর, ম্যাশিনিস্ট, মেকানিক, কংক্রিট মিক্সার অপারেটর, ডিমোল্ডিং অপারেটর, সহকারী ক্রাশার অপারেটর, সহকারী ল্যাবরেটরী হেলপার, ওয়েল্ডার হেলপার, টেনশনিং হেলপার, নিরাপত্তা প্রহরী, খালাসী, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে জনবল সংকট।
জানা যায়, ১৯৮৮ সালের ২৭ অক্টোবর দৈনিক ২৬৪ টি স্লিপার উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে ছাতকে কংক্রিট স্লিপারপ্ল্যান্টর ( কারখানার) যাত্রা শুরু হয়। জানা গেছে, কাঠের তৈরি স্লীপারের স্থায়িত্ব গড়ে ১০ বছর, অপরদিকে, কংক্রিট স্লীপারের স্থায়িত্ব ৫০ বছর। তৎকালীন সরকার দেশের রেললাইনকে মজবুত, টৈকসই ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ছাতকে দেশের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার কারখানা স্থাপন করে। কারখানাটিতে উৎপাদন শুরুর পর থেকে সচল থাকলেও ২০০০ সালে দেখা দেয় অশনীসংকেত। ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০২০ সালে কয়েকবার চালু হলেও এর স্থায়িত্ব বেশিদিন টিকেনি। যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামাল সঙ্কটের কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্ট। বর্তমানে ছাতক রেলওয়ে ও কংক্রিট স্লিপার কারখানা কর্মকর্তা পদ শূন্য। আবার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা বেশীরভাগ সময়ই থাকেন ঢাকা ও সিলেটে।
ছাতক রেলওয়ের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ (ফোরম্যান) আসাদুজ্জামান খান যোগদান করার পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে থাকেন না। কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্টের উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কার্য জাকির হোসেন খান এখানে রয়েছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে। অভিযোগ ওঠেছে তিনি মাসে একবার এসে রেলওয়ের বাংলোতে রাত্রিযাপন করে চলে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানিয়েছেন, এমনিতেই এই প্ল্যান্টে রয়েছে জনবল সংকট। আর দায়িত্বশীল যারা রয়েছেন তারা বিভিন্ন অযুহাতে এখানে নামমাত্র হাজিরা দিয়ে চলে যান।
ছাতক কংক্রিট স্লিপার প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে স্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ে সিলেটের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (ছাতক অতিরিক্ত দায়িত্ব) আজমাঈন মাহতাব বলেন, সাময়িক সমস্যার কারণে প্ল্যান্টটি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী টু ঢাকা এবং ছাতক বাজার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, স্লিপার কারখানাটি শীগগির উৎপাদনে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।



