সাফল্যের গল্প : শ্রীমঙ্গলে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে হাবিবের চমক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৪:১৭:২৫ অপরাহ্ন
আবুল ফজল মো. আবদুল হাই, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে : শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত শিম এখন গ্রীষ্মকালেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। আশিদ্রোন ইউনিয়নের ডেঙ্গারবনসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমি ভরে উঠেছে সবুজ শিমে, কৃষকের মুখে হাসি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর শুধু আশিদ্রোন ইউনিয়নে ৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। চাষ হওয়া শিম বিষমুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
ডেঙ্গারবন গ্রামের আহসান হাবিব ২০১৪ সালে মাত্র ১২টি বীজ সংগ্রহ করে এক শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শিম চাষ শুরু করেন। প্রথম মৌসুমেই তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার শিম বিক্রি করেন। বিদেশ থেকে ফিরে বর্তমানে তিনি ৬০ শতক জমিতে চাষ করছেন এবং এরই মধ্যে এক লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন, প্রতি কেজি ১৩০ টাকা দরে। আরও প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার শিম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
আহসান হাবিবের সাফল্য দেখে আকবর আলী, শিপন মিয়া ও ইউনুস মিয়াসহ আরও অনেকে শিম চাষ শুরু করেছেন। তারা জানান, কম খরচে বেশি লাভের কারণে শিম চাষ তাদের কাছে খুবই লাভজনক মনে হয়েছে।
সিকৃবি উদ্ভাবিত ‘সিকৃবি শিম-১’ জাতের এই শিম গ্রীষ্মকালীন চাষের উপযোগী এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে ৮ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। বারি শিম-৭, ইপসা শিম-২সহ আরও কয়েকটি জাতও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, শিমে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন, থায়ামিন ও রাইবোফ্লাবিনসহ নানা পুষ্টিগুণ।
শ্রীমঙ্গল কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুকুর রহমান জানান, কৃষকদের পাশে থেকে আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাজারে চাহিদা থাকায় তারা ভালো দাম পাচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।




