শ্রীমঙ্গলে ‘লটকন’ চাষে সফল আতর আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুলাই ২০২৫, ৭:৪৪:৩০ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : গাছে ঝুলছে লটকন। গাছের গুড়ি থেকে কান্ড শাখা প্রশাখায় ঝুলে আছে রসালো ফল লটকন। শ্রীমঙ্গলের সদর উপজেলার ডলুছড়া গ্রামের সফল চাষি মো. আতর আলীর ফলবাগানে সারি সারি লটকন গাছে এখন শোভা পাচ্ছে এমন চিত্র।
এ বছর ১ লক্ষ টাকার লটকন বিক্রি করেছেন মো. আতর আলী। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ডলুছড়া পাহাড়ি এলাকায় ১৫ বিঘা জমিজুড়ে লটকনসহ ৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তরুণ চাষি মো. আতর আলী।
চাষি আতর আলীর বিশাল ফল বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে লটকন ছাড়াও মালটা, কফি এরাবিকা, কফি রোবাস্টা, কাজু বাদাম, ক্যান্সার প্রতিরোধ উদ্ভিদ, আনারস, লেবু, আম, কাঁঠাল, লিচু, বেল, জাম্বুরা, কাঁচা মরিচ, নাগা মরিচ, কলা, সাজনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলে লটকন চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। উপজেলার সাতগাঁও, রাজঘাট, ভাড়াউড়া, কালিঘাট, ডলুছড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এখন লটকন চাষ হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও উঁচু জমিতে এই ফল চাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
আতর আলী বলেন, তিনি ৬ বছর আগে মৌলভীবাজারের আকবরপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে দুইটি লটকন এর চারা এনে পরীক্ষামুলকভাবে রোপণ করেছিলেন। চারা দুটিতে ফলন ভালো দেখে পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করেন। ধীরে ধীরে কলম করে ডলুছড়া পাহাড়ি টিলায় বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেন। এখন তার বাগানে ৩৫ টি লটকন গাছ রয়েছে। এবার ৬ টি গাছে ১ হাজার কেজি ফলন পেয়েছেন। এ বছর তিনি ১০০ টাকা কেজি দরে ১ লাখ টাকার লটকন বিক্রি করেছেন।
আতর আলী বলেন, গত মৌসুমে ৬০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করলেও এবছর বিক্রি বেড়েছে ৪০ হাজার। আগামী মৌসুমে তিনি কয়েক লাখ টাকার লটকন বিক্রি করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি টিলা আর উর্বর লাল মাটিতে লটকনের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। এখানকার কৃষকরা এখন লটকন চাষকে লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।




