জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ
গ্রামাঞ্চলের মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে জকিগঞ্জে ফ্রি চক্ষুসেবা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ২:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন
কাউসার চৌধুরী : ৮০ বছরের বৃদ্ধা আয়ারুন নেসা। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অনবরত। চোখে ঝাপসাও দেখেন। কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় শহরে এসে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে দিন দিন যেন তিনি দৃষ্টি হারাতে বসেছেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চক্ষু সেবার খবর পেয়ে তিনি পরচকের মৌলভী ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছুটে এসেছেন। আয়ারুন পরচকের পার্শ্ববর্তী নয়াগ্রামের বাসিন্দা। একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ তার চোখ দেখেছেন, পেয়েছেন প্রয়োজনীয় ঔষধও। আয়ারুন বেজায় খুশি, তার আলোর প্রদীপ আর নিভবে না ফিরে পেয়েছেন আলোর ঝলকানি।
পার্শ্ববর্তী মহিদপুরের আসমা বেগমের চোখেরও একই অবস্থা। কিন্তু টাকা-পয়সার অভাবে চোখের আর চিকিৎসা করা হয়ে ওঠেনি। দিন দিন তার চোখও খারাপের দিকে যাচ্ছিল। তিনিও চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে তার চোখ দেখাতে পেরেছেন
কেবল আয়ারুন নেসা আর আসমা বেগমই নয়। তাদের মতো শত শত নারী-পুরুষ তাদের আলোর প্রদীপ ফেরাতে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
জকিগঞ্জের ছাইর আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের মাঠে এই ফ্রি চক্ষু সেবার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।
সেবায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই ফ্রি চক্ষু সেবা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের আটটি স্থানে ধারাবাহিকভাবে দেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক হাজার পাঁচশত চক্ষু রোগীকে চক্ষু সেবা দেয়া হয়েছে ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের সহযোগিতায় আয়োজিত ফ্রি চক্ষু সেবা গ্রামাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা নারী-পুরুষ তাদের দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্ট এর চেয়ারম্যান ফাহিম আল চৌধুরী ভার্চুয়ালী বক্তব্য দেন।
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম সেলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিএনপি চেষারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, ড্যাব’র নবনির্বাচিত মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, আরব আমিরাত বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. এ এস এম হায়দার পারভেজ, ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রকৌশলী মাহবুব আলম, ফাউন্ডেশনের মনিটর ও নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ডা. ইকবাল, ফাউন্ডেশনের মনিটর অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিলেট জেলা ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. শাকিলুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহিন আহমদ, ওলী চৌধুরী ও সাহেদ আহমদ রাসেল বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, আমরা যদি প্রত্যেকের জায়গা থেকে ছোট ছোট করে উদ্যোগ নেই। আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবেই আসবে। দেশেরও মঙ্গল হবে। ২৬ বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। দেশের যেখানে সুর্ভোগ-সমস্যা, সেখানে ফাউন্ডেশন। আগামীতে কলেজ পর্যায়ে বৃত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেটসহ সারাদেশে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা, ধুপ্তি ও দুর্যোগে পড়া জনগোষ্টির জন্য কাজ করা হচ্ছে।
ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টের কথা তুলে ধরে ধরে তিনি বলেন, ফাহিম আল চৌধুরী একজন প্রচার বিমুখ মানুষ। তার ট্রাস্টের কার্যক্রমের সাথে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মিল রয়েছে। তিনি মানবিক কাজ করছেন। তিনি ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে ফাহিম আল চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বন্ধু বছর ধরে বাংলাদেশের সবচেয়ে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এপাশে পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত ১৭ বছরের শাসনামলে এই মহৎ, মানবিক কাজকে প্রকাশ্য আসতে দেওয়া হয়নি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। কিন্তু আজ সেই আলো- অন্ধকার ভেদ করে আমাদের সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। কেবল আমাদের মানুষের প্রতি অঙ্গীকার, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ২০০২ সাল থেকে আমার সামাজিক কাজের ইতিহাসের কারণে। আমাদের ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, কল্যাণ এবং জীবন উন্নয়ন চিকিৎসা, অনাথ আশ্রম, মসজিদ-মাদ্রাসা-স্কুল প্রতিষ্ঠা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা এবং হাজার হাজার পরিবারকে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দান করে আসছে আলহামদুলিল্লাহ। এসব কাজের জন্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছে, আস্থা রেখেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, শহীদ জিয়া কেবল স্বাধীনতার ঘোষকই নয়। তিনি ছিলেন মানবিক কার্যক্রমের এক অনন্য মানুষ। তার দেখানো পথ ধরেই কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বন্যা, করোনা এমনকি বিগত দিনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকারীদের পাশেও এই ফাউন্ডেশন দাঁড়িয়েছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ মিয়ার কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক। তার কাজের অনুসরণ করলে কাজ করে শেষ হবে না। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন শহীদ জিয়ার শখ ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। আজকের এই আয়োজন এর প্রমাণ। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, যার মাধ্যমে সেবামূলক রাষ্ট্র শুরু হয়েছিল তার নামেই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। বিগত দিনে বন্যা, করোনাসহ সকল দুর্যোগে এই ফাউন্ডেশন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনেও নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
ড্যাব মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কাজ করছে। বিগত দিনে সিলেটেও এই ফাউন্ডেশন কাজ করেছে।
সিলেটে তার স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, সিলেট থেকে রাজনীতি শুরু করেছিলাম। আগামীতে দেশের স্বাস্থ্য সেবায় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তারা ফ্রি চক্ষু সেবা আয়োজনে সহযোগিতার জন্যে ফাহিম আল চৌধুরী ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সেলিম, জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমেদ রনি, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিলেট কতোয়ানি মডেল থানা বিএনপির সদস্য সচিব শোয়াইব আহমদ, সি সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ রফিকুল ইসলাম, সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিনামূল্যে এই চক্ষু সেবা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রথম ধাণে সেবা প্রদানের পর পরবর্তীতে পুনরায় রোগীদের ফলোআপ চিকিৎসা প্রদান করা হবে। আগামীকাল শনিবার জকিগঞ্জ উপজেলার বাবুবাজারের জোবেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ২০ আগস্ট বুধবার বীরদল উচ্চ বিদ্যালয়, ২৩ আগস্ট হাফিজ মজুমদার বিদ্যা নিকেতন, ৩০ আগস্ট কানাইঘাট উপজেলার শাহজালাল ছাত্তারিয়া মাদ্রাসা, ৬ সেপ্টেম্বর মূলাগুল উচ্চ বিদ্যালয়, ৮ সেপ্টেম্বর চতুল হাবাতৈল মহিলা মাদ্রাসা এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ডাকিগঞ্জের ঈদগাহ বাজায় উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি চক্ষুসেবা দেয়া হবে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করবেন।
সংশ্লিষ্টরা আনিয়েছেন, উপরোক্ত স্থানে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদেরকে একই স্থানে পরবর্তীতে ফলোআপ চিকিৎসা দেয়া হবে।




