নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার
সাদাপাথর লুট : ৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, ১০ সুপারিশ, রয়েছে জড়িতদের নাম
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৫, ২:০৮:০৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ১০টি সুপারিশের পাশাপাশি কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লুটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা দেড়টার দিকে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের কাছে এ প্রতিবেদন দেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।
প্রতিবেদনে কী আছে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন পদ্মাসন সিংহ। পদ্মাসন সিংহ বলেন, ‘ডিসি স্যারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। প্রতিবেদনে ১০টি সুপারিশসহ জড়িত বিভিন্ন জনের নাম রয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে চাননি।’
এ বিষয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, ‘এ প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে আর কিছুই বলা যাবে না।’
এর আগে সাদাপাথর লুটের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে ১২ আগস্ট জেলা প্রশাসন ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহকে কমিটির আহবায়ক করে এতে সদস্য হিসেবে রাখা হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (গত সোমবার তাঁকে বদলি করা হয়েছে) আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. আফজারুল ইসলামকে। শুরুতে ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কমিটি আরও তিন দিন সময় নেয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে দাবি করা হচ্ছে- সাদাপাথর লুটের সাথে জড়িত ১৩৭ জনের নাম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আর আগামীতে পাথর লুট বন্ধে ১০টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। ৭ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে যে ১৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলেও দাবি করা হয়।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটি :
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুটপাটের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিবকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব)।
অন্য সদস্যরা হলেন- জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি।
এতে বলা হয়েছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনস্পট ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও পর্যটন স্থানের নান্দনিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় সরকার।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
লুটপাটকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে ॥ বিভাগীয় কমিশনার
এদিকে, বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরের দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের পাথর লুটকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে। কাজ চলছে সতর্ককতার সাথে। যাতে প্রকৃত দোষীদের নাম তালিকায় আসে এবং নির্দোষ মানুষ হয়রানির শিকার না হন। তালিকা তৈরির পর তা প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেটে চোরাচালান ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় জনবল বাড়ানো হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবির আরও তিনটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এরমধ্যে একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়াও পুলিশের জনবলও বাড়ানো হচ্ছে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া আরও ক্যাম্প এবং চেকপোস্টও বসানো হবে।
সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কথা হচ্ছে রাষ্ট্রের এই সম্পদ তসরুফের সাথে যারা জড়িত বা যারা চুরি করেছে-তাদের বিরুদ্ধে যেমন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তেমনি এই সম্পদ সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত ৮ জুলাই আমরা ইজারা নিয়ে কথা বলেছি। পাথর চুরি নিয়ে কিছু বলা হয়নি। পাথর চোরদের উৎসাহিত করার মতো কিছু আমি বলিনি। তেমন কিছু কেউ বললে বা ছড়ালে সেটা ভুল ম্যাসেজ।
লুটকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে গোয়েন্দা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে। যাতে প্রকৃত লুটপাটকারীদের নাম তালিকায় প্রকাশ হয় এবং নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে কাজ হচ্ছে। সেজন্য একটু সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।




