এবার খাজাঞ্চিবাড়ি স্কুলের নতুন ৫ ট্রাস্টির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ আগস্ট ২০২৫, ২:১৬:৩৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিলেটের প্রথম ইংরেজি মিডিয়াম (মাধ্যম) স্কুল দি সিলেট খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের (এসকেআইএসসি) নতুন ৫ ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যকে স্কুল সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। সম্প্রতি সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ এইচ ইরশাদুল হক সিলেটের ডাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আদালত সভা-কার্যক্রমে যোগদানের ওপর তাদেরকে অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানীর তারিখ ধার্র্য্য রয়েছে।
যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে-তারা হলেন যথাক্রমে (২)সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম), (৩) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), (৪) সদর উপজেলা ইউএনও, (৫) মহানগর সার্কেল-এর এসিল্যান্ড, (৬) সিলেটের জেলা প্রশাসকের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার সিনিয়র সহকারী কমিশনার/সহকারী কমিশনার।
আদালতের আদেশে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দি কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৯০৮ এর অর্ডার এক্সএক্সএক্সআইএক্স, রুল-১ এর বিধান মোতাবেক ২-৬ নম্বর বিবাদীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনায় একটি দরখাস্ত দাখিল করা হয়। শুনানীশেষে এ ব্যাপারে ১৭ জুলাই নোটিশ জারি হলে ২২ জুলাই নোটিশ জারি অন্তে ফেরত আসে।
নোটিশে সুস্পষ্টভাবে ৫ কার্যদিবসের (সকাল ১০টার মধ্যে) উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশনা থাকলেও ২-৬ নম্বর বিবাদীপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। উপরন্তু আদালতের হলফনামা প্রদানের নির্ধারিত সময় ১২টার মধ্যেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি মর্মে দৃষ্ট হয়। এমতাবস্থায় দি কোড অব সিভিল প্রসিডিউর. ১৯০৮ এর অর্ডার এক্সএক্সএক্সআইএক্স, রুল-১ এর বিধি মোতাবেক আনীত দরখাস্ত পূর্ণাঙ্গ শুনানী পর্যন্ত বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সভা ও কার্যক্রমমে অংশগ্রহণ হতে ২-৬ নং বিবাদীকে অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ দ্বারা বারিত করা হলো। সম্প্রতি মোকদ্দমার আরেক দফা শুনানি আদালত ২-৬ নম্বর বিবাদীর ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এসকেআইএসসি’র ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল বাকি চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য যথাক্রমে প্রফেসর আ ন আ আ মাহবুব আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, জামিল আহমদ চৌধুরী ও প্রফেসর নজরুল হক চৌধুরী আদালতে এ স্বত্ত্ব মোকদ্দমা দাখিল করেন।
প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (১) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ছাড়াও মামলায় বিবাদী করা হয় উল্লিখিত ৫ জনকে।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৪ জুন প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের ২০০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার ৪ নম্বর এজেন্ডায় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বাদীগণের অসম্মতি ও মতামত উপেক্ষা করে ৫ সরকারি কর্মকর্তাকে ট্রাস্টি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে গত ২৪ জুন ২শ’তম সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তসমূহের টাইপকৃত কপি বাদীদের লিখিত আকারে উপস্থাপন করা হলে তারা এতে গুরুতর আপত্তি করেন। এরপর এক নম্বর বিবাদী ৪ নং এজেন্ডার সিদ্ধান্তসমূহ এককভাবে টাইপ করিয়ে গত ৭ জুলাই তারিখে স্বাক্ষর করেন এবং স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও মেম্বার সেক্রেটারিকে একইভাবে স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করেন। এ অবস্থায় বাদীগণ ২ থেকে ৬ নম্বর বিবাদী যাতে ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালন করতে না পারেন-সেটা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।




