শান্তিগঞ্জে ব্যবসায়ীকে দোকানে ডেকে নিয়ে বেদরক মারধর, থানায় অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৮:২০ অপরাহ্ন
শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালী কর্তৃক এক ব্যবসায়ীকে দোকানে ডেকে নিয়ে বেদড়ক মারধর করে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী হলেন উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের মৃত আছদ্দর মিয়ার ছেলে এবং পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪ ঘটিকার সময় উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া বাজারে। এই অমানবিক মারধর ও টাকা লুটের বিষয়ে ঐদিন রাতে হাবিবুর রহমানের ভাই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ফখরুল ইসলাম সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে শান্তিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাথারিয়া ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের মৃত মাহমদ আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম বিশিষ্ট সুদের কারবারী। গত কিছুদিন আগে ঠাকুরভোগ গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে আকমল হোসেনের কাছে উচ্চহারে সুদের টাকার লেনদেন করে ফখরুল ইসলাম । হাবিবুর রহমান হাবিব ও তার ভাই দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ পাথারিয়া বাজারে অত্যন্ত সুনামের সাথে মুদির দোকানের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। আকমল ঠাকুরভোগ গ্রামের হলেও এই সুদের টাকার লেনদেনের বিষয়ে হাবিবের কিছুই জানা ছিলনা। ঘটনার দিন হঠাৎ করে ফখরুল ইসলামের লোকজন হাবিবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে খবর দিয়ে তাকে ফখরুলের দোকানের গোদাম ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে আকমলের কাছ থেকে সুদের টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করার এক পর্যায়ে ফখরুল তাহার ছেলে মাহবুব সহ কয়েকজন একত্রিত হয়ে লোহার রড ও রুইল দিয়া বেদরক মারধর করে হাবিবকে গুরুতর জখম করে এবং এ সময় হাবিবরে কাছে থাকা ৫ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। লোহার রড ও রুইলের আঘাতে হাবিবের নাকের হাড়ভাঙ্গা সহ মাথার কয়েক জায়গায় হাড়ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীগন ফখরুল গংদের কাছ থেকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে গুরুতর আহত হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সুদের টাকা আমি নেইনি আমার গ্রামের একজন নিলেও আমি তা জানিনা। কিন্তু গ্রামের একজনের কাছে সুদের টাকা পাইলে এইভাবে আমার মত নিরপরাধ মানুষকে দিনদুপুরে ডেকে নিয়ে বেদরক মারধর ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া বর্বরতার যুগকেও হার মানায়। ভিন্ন গ্রামের মানুষকে ধরে নিয়ে এইভাবে মারধর করলে মানুষ এই বাজারো ব্যবসা করতে আসবে না। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে জড়িত ফখরুল সহ তাহার আত্নীয় স্বজনকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান হাবিব।
এ বিষয়ে অভিযোক্ত ফখরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে ফোন দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল মিয়া বলেন, দিনদুপুরে একজন ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতাকে এভাবে দোকানে ডেকে নিয়ে মারধরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িতদেরকে দ্রত আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানাই।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওলীউল্লাহ জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




