জাতীয়করণের এক যুগ পরও জরাজীর্ণ ভুরভুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়!
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রীমঙ্গলের ভুরভুরিয়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের এক যুগ পরও চলছে টিনসেডের জরাজীর্ণ ঘরে। নেই পাকা ভবন। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ কিংবা শিক্ষার্থীদের জন্য নেই শৌচাগার। বর্ষায় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যায়, গরমে ভেতর অসহনীয় হয়ে ওঠে। এ চিত্র যেন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল অবস্থার প্রতিচ্ছবি!
জানা যায়, ২০১০ সালের প্রথম দিকে দ্য কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানির (ফিনলে) তত্ত্বাবধানে ৩৩ শতাংশ ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১১ বছরেও সেখানে নির্মিত হয়নি কোনো ভবন। তবে ২০২৪ সালের শেষ দিকে পাইলিংসহ পাঁচ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) থেকে অর্থ বরাদ্দ হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান ও কাজ সম্পাদন না করায় অর্থ ফেরত চলে গেছে।
বিদ্যালয়ের চারটি ছোট কক্ষে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। বেঞ্চ না থাকায় অধিকাংশকেই মাটিতে বসে পড়তে হয়। ওয়াশরুম সংকটে অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন। চা বাগান ও জঙ্গলের পাশে হওয়ায় মাঝেমধ্যে সাপ জোঁকও ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। বাউন্ডারি না থাকায় বিদ্যালয় চত্বর গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শান্তনা পার্শী বলেন, ছোট টিনসেডের ঘর, ছাত্রছাত্রী অনেক বেশি। তিনটি শ্রেণিকক্ষ আছে কিন্তু বসার অনেক কষ্ট। ব্রেঞ্চ ২০ জোড়া আছে তাতে অর্ধেক শিক্ষার্থীও বসতে পারে না। ঝড়, বৃষ্টি এলে ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে। বাচ্চাদের জন্য কোনো ওয়াশরুম নেই। শিক্ষকদের জন্য স্কুল ঘরের বাইরে একটি ছোটখাট ওয়াশরুম আছে। সেটিতেও বৃষ্টির সময় সাপ, ব্যাঙ থাকে। তাই, ওয়াশরুম যাওয়া যায় না।
সহকারী শিক্ষিকা ফাইরুজ তাবাস্সুম বলেন, বিদ্যালয় ঘরটি অনেক ছোট হওয়ার কারণে হোয়াইট বোর্ড রাখারও জায়গা হয় না। প্রজেক্টর থাকা সত্ত্বেও এটি আমরা ব্যবহার করতে পারছি না।
প্রধান শিক্ষক সবিতা রানী দেব জানান, বহুবার আবেদন করেও ভবন নির্মাণ হয়নি। ২০২৪ সালে পিইডিপি-৪ প্রকল্প থেকে বরাদ্দ এলেও সময়মতো টেন্ডার না হওয়ায় অর্থ ফেরত যায়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, উপজেলার ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তিনটিতে এখনও পাকা ভবন নেই। এর মধ্যে ভুরভুরিয়া বিদ্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হোসেন খান জানান, সময়সীমার ঘাটতির কারণে পিইডিপি-৪ এর বরাদ্দকৃত ভবনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগামী পিইডিপি-৫ প্রকল্পের অধীনে ভবন নির্মাণের নতুন বরাদ্দের প্রত্যাশা রয়েছে।




