সাদাপাথর পার্কিং থেকে কার চুরি, তদারকির অভাব, না অন্য কিছু?
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:০১:০০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র এলাকার পার্কিং এরিয়া থেকে একটি প্রাইভেট কার (প্রিমিও) চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার দিকে সাদাপাথরের ১০ নম্বর খেয়াঘাটের গাড়ি পার্কিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অথচ এই গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করলেই টাকা দিতে হয় উপজেলা প্রশাসনকে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য টাকা রাখলেও গাড়ি কোথায় রাখবে বা কার অধীনে রাখবে, সেটার কোনো ব্যবস্থা নেই সেখানে। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের গাড়ির হেলমেট সহ বিভিন্ন জিনিস খোয়া যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পর্যটক জানান, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে তারা একটি প্রিমিও প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ- ২১৩৮৩৮) নিয়ে সাদাপাথর ভ্রমণে আসেন। গাড়িটি পার্কিং এরিয়ার নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করে নদীর ঘাটে পার্ক করে ড্রাইভারসহ পুরো দল সাদাপাথর এলাকায় ঘুরতে যান। প্রায় চার ঘণ্টা পর সকাল ১১টায় ফিরে এসে দেখেন গাড়িটি আর সেখানে নেই। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও গাড়ির কোনো খোঁজ পাননি তারা।
গাড়ির চালক জুনায়েদ হাসান (২১) জানান, আমরা ২ টি গাড়ি করে ১৯ জন আসছিলাম। পর্যটন এরিয়ার পার্কিংয়ে নির্ধারিত ফি ১৫০ টাকা দিয়ে ২ টি গাড়ি পার্কিং করে রেখে যাই। পরে এসে দেখি আমাদের একটি গাড়ি আছে আর আরেকটি নেই। গাড়ির ভেতরেই আমাদের মালপত্র সহ পার্কিংয়ের রিসিট রেখে গিয়েছি। এখানে টাকা দিয়ে গাড়ি পার্ক করে রেখে গেলাম আর এসে দেখি গাড়ি নেই।
এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকে কে বা কারা পর্যটকদের একটি প্রিমিও গাড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে। গাড়ি চুরির ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ চোরচক্রকে ধরতে এবং গাড়ি উদ্ধার করতে কাজ করে যাচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, তাদের গাড়ি হারিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি। উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। তবে তারা কোনো রিসিট দেখাতে না পারায় আমরা নিশ্চিত হতে পারছি না এখানে গাড়ি রাখা কি না।
জানা যায়, সাদাপাথর যাওয়ার জন্য ভোলাগঞ্জ দশ নম্বর এলাকায় গাড়ি পার্কিং করে রাখতে হয় নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু, গাড়ি তদারকির জন্য কিছু করা হয় না। ২/৩ জন মানুষ বসে শুধু একটি রিসিট দিয়ে গাড়ি মাফিক টাকা নেয়। এখানে গাড়ির চালককে দেওয়া রিসিটে শুধু গাড়ির নম্বর লেখা হয়। আর প্রশাসনের কাছে থাকা অপরপাশে কোনো কিছু লেখা হয় না। যার কারণে এখানে টাকা জালিয়াতিরও অভিযোগ বেশ পুরনো। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যটক এটা নিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন ও অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু, আদৌ এর কোনো সমাধান হয়নি।




