সাংবাদিক-ছড়াকার মিলু কাশেমের ইন্তেকাল, দাফন সম্পন্ন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৭:১৭:৩৬ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : আশির দশকের বহুমাত্রিক লেখক, সাংবাদিক ও ছড়াকার মিলু কাশেম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বাদ জোহর সিলেট নগরীর খাসদবীর দারুস সালাম মাদ্রাসা মসজিদে জানাজা শেষে মাদ্রাসা সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন মিলু কাশেম। হাসপাতালে ভর্তির পর তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মিলু কাশেম ১৯৫৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম সৈয়দ আবুল কাশেম মিলু। সিলেট নগরের আম্বরখানা বড় বাজার এলাকায় তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।
১৯৭৩ সালে আবুল কাশেম মিলু নামে লেখালেখির শুরু। সত্তরের দশকে ছড়া লিখে তিনি দুই বাংলাতেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। দৈনিক বাংলা পত্রিকার জনপ্রিয় ছোটদের পাতা ‘সাত ভাই চম্পা’র মাধ্যমে তিনি মিলু কাশেম নামে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭৩ সালে ‘সাপ্তাহিক যুগভেরী’ পত্রিকার সাথে জড়িত হন। তার বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি ১৯৭৭ সালে সামরিক জান্তাবিরোধী আন্দোলনের কারণে কারাবরণও করেন। বহমান সময়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিগত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুতে জীবন-জীবিকার অন্বেষণে ইউরোপে পাড়ি জমান। প্রথম প্রবাস গড়েন হলান্ডের আমস্টারডামে। এরপর ভাগ্যক্রমে জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, ইতালি, স্পেন অর্থাৎ পূর্ব পশ্চিম ইউরোপের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন। ১৯৯২ সালে দেশে ফিরে সাপ্তাহিক ‘সংবাদচিত্র-অপরাধচিত্র’র মাধ্যমে মিলু কাশেম পুনরায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ছিলেন সংবাদ চিত্রগ্রুপ অব পাবলিকেশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান। তিনি কিছুদিন সিলেট থেকে প্রকাশিত জাতীয় পাক্ষিক ‘পনের দিন’র নির্বাহী সম্পাদকও ছিলেন। আজকের বিচিত্রা, সাপ্তাহিক প্রতিচিত্র, সাপ্তাহিক দেশচিন্তাসহ দৈনিক কাজীর বাজার পত্রিকার সাথেও তিনি দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট বিভাগের ক্রাইম রিপোর্টার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
মিলু কাশেমের প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্মৃতির সিলেট, পদ্মপাতায় প্রীতির নাম, লাল সবুজের হাসি দেশকে ভালোবাসি, স্বাধীনতার কবিতা এবং ইউরোপ থেকে বাংলাদেশ ইত্যাদি।




