সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
চাতল মৌলাটিকর এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১:৩৫:২৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট বিমানবন্দর থানার টুকেরবাজার ইউনিয়নের চাতল মৌলাটিকর গ্রামে এক নারীর পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলচেষ্টা ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ ওঠেছে। গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন এলাকার আব্দুস শহীদের মেয়ে রাজিয়া বেগম।
তিনি জানান, চাতল মৌজার এস.এ ১৯২২, বি.এস ৩৮৪৬ নং দাগে ৭৭ শতাংশ জমির মালিক তার বাবা আব্দুস শহীদ। বাবার মৃত্যুর পর বাবার সম্পত্তির একটি অংশ পান তিনি। বাটোয়ারায় প্রাপ্ত অংশ খতিয়ানে প্রত্যেকের নিজ নিজ নামে রেকর্ডভুক্ত। বড় ভাই সাইস্তা মিয়া মারা যাওয়ার পর সম্প্রতি তার স্ত্রী রহিমা বেগম ও ছেলে রাদি স্থানীয় মোহাম্মদ আব্দুল মুছাব্বির মিয়ার পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের অংশ বিক্রি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ভাই সাইস্তা মিয়ার জমির অবস্থান আমার জমি থেকে আরও তিন প্লট দক্ষিণে থাকলেও জমি বিক্রির সময় তার স্ত্রী ও ছেলে চৌহাদ্দায় ভুল অংশ অর্থাৎ রাজিয়া বেগমের অংশ তাদের নিজেদের বলে দলিলে উল্লেখ করেন।
মুছাব্বির মিয়া এলাকায় প্রভাবশালী ও ফেৎনাবাজ হওয়ায় তারা এখন জোরপূর্বক এই জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমির ক্রেতা আব্দুল মুছাব্বিরের সঙ্গে আমাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ভাইদের নিয়ে তিনি জোরপূর্বক আমার প্রাপ্ত ভূমি জবর দখল করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে রাজিয়া বেগম জানান, গত ২৯ আগস্ট বিকেলে আমার বাড়িতে এসে মুছাব্বির ও তার সহযোগীরা আমাকে মারধর করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে হামলা চালালে আমি ও আমার স্বামী নাজিম উদ্দিন, ছেলে তানজিল আহমদ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। হামলার সময় পূবালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা ৩ লাখ টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়।
হামলার শিকার হলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঘটনার পরদিন চাতল এলাকায় মুছাব্বির ও তার দুই ছেলে জুবের ও মুজাম্মিলসহ অন্যরা
আমার ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে। এই ঘটনায় আমার মেয়ে ফাতেহা আক্তার বাদী হয়ে থানায় এজাহার জমা দিলেও সেটি এখনো রেকর্ড করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।
রাজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ভাইয়ের জমি ১০০ ফুট দূরে থাকলেও চক্রান্ত করে ঘর ভেঙে যাতায়াতের রাস্তা করে দিতে এই ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মামলা দিয়ে ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে ও পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
মুছাব্বিরদের কাছে এলাকাবাসীও জিম্মি জানিয়ে তিনি বলেন, তারা পাঁচ ভাই এলাকার পঞ্চায়েতি রাস্তা দখল করে রেখেছে। এলাকার লোকজনের যাতায়াতের এই রাস্তা দখল করে রাখায় লোকজনের চলাচলের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এই নিয়ে এলাকায় অনেক বিচার সালিশ হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ভূমিখেকো এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




