সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
‘দেওকলস উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন সাবেক সভাপতি মতছিন’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ৪:০২:৩৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বনাথের দেওকলস দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ফখরুল আহমদ মতছিন। তার দুর্নীতির কারণে স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সাবেক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও এলাকার বাসিন্দারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এম এন ইসলাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, “১৯৯৮ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা হাই স্কুল হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিশ্বনাথ উপজেলার সহসভাপতি ফখরুল আহমদ মতছিনের মতো অসৎ, লোভী, গভর্নিং বডির সভাপতি দায়িত্ব পালন করায় প্রতিষ্ঠানটির সকল অর্জন ম্লান হয়ে পড়ে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়েও অবৈধভাবে সভাপতির পদ ধরে রাখা ও দায়িত্ব পালন করা মতছিন একজন অভ্যাসগত অসৎ ও প্রতারক ব্যক্তি”।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, “সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হয়েও প্রায় ৩ বছর মতছিন অবৈধ সভাপতি হিসাবে গভর্নিং বডির কমপক্ষে ৩৪টি সভায় বেআইনিভাবে সভাপতিত্ব করেন। প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেন। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলে লোক দেখানো সংস্কার কাজ করে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ টাকার ভাউচার দাখিল করেন। তিনি অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জেলা পরিষদ কর্তৃক বরাদ্দ ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা (ভ্যাট বাদে) এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন”।
এম এন ইসলাম জানান, “মতছিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত ও অডিটের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন স্থানীয় লোকজন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সিলেট এর সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত করেন। তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মতছিন গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে ক্যাশ বইয়ে আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব সংরক্ষণ না হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনে ফখরুল আহমদ মতছিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে”।
তিনি বলেন, এ থেকে প্রমাণিত হয় ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের পতন হলেও আওয়ামী লীগার এবং তাদের দোসরদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি কমেনি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তাকে দুদকের প্রতিবেদনে দায়মুক্তি প্রদান করায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন তার দায়মুক্তির প্রতিবাদ জানান এবং মতছিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পুন:তদন্তের নির্দেশ প্রদানের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আলহাজ আব্দুল গনি, সাবেক সদস্য মো. ফারুক মিয়া ও মো. সালাহ উদ্দিন, অভিভাবক মো. ছইদ আলী, মো. আজাদুর রহমান খান, মো. আব্দুস সালাম, মো. মবশি^র আলী, মো. সাদ্দাম মিয়া, মো. হাসান আহমেদ, মো. আব্দুর রহিম ও রোহান আহমদ প্রমুখ।




