চেলা নদীর বালু উত্তোলন নিয়ে দোয়ারাবাজারে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ২০
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫:০৫ অপরাহ্ন
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে চেলা নদীর পার কেটে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের আশরাব উদ্দিন (৩৫), মমিন মিয়া (৫২), স্বরাজ মিয়া (৫০), শাহরন মিয়া (২৫), আমির হোসেন (৪০), মাইনুদ্দিন (২৫), সাগর মিয়া (২৮), দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও সমশর আলী (৩৪) এবং উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৬), নুর উদ্দিন (২৫), সাদ্দাম হোসেন (৩১), মোহাম্মদ আলী ও নজরুলসহ উভয় গ্রামের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
পরে স্থানীয় মুরব্বি ও জনপ্রতিনিধিদের ঘন্টাব্যাপী প্রাণ চেষ্টা এবং সর্বশেষ পুলিশের উপস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পায় উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর ও পূর্ব চাইরগাঁও গ্রাম দুটি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সোনালীচেলা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে শুকিয়ে যাওয়া চেলা নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন নিয়ে উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আছন আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এবং স্থানীয় পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের রমিজ আলীর ছেলে আরশাব উদ্দিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উত্তর শ্রীপুর গ্রামের কথিত নজরুল ও তার সহযোগীরা পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের আরশাব উদ্দিনকে চেলা নদীতে একা পেয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। এ সময় তার শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে আহতের ঘটনায় দুপুর ১২টার দিকে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ও রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই গ্রামের শত শত মানুষ।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী, ইস্রাঈল আলী, সজ্জাদুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য সালিশী ব্যক্তিবর্গের ঘন্টাব্যাপী আপ্রাণ চেষ্টার পর সালিশ বৈঠকে বিষয়টির বিচারের আশ্বাস প্রদান এবং পরিশেষে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও স্থানীয় সোনালীচেলা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ করেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে বিজিবির উপস্থিত হয় বলে তিনি জানান।
দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সালিশ বৈঠকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলে শুনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবুও আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।




