“ঈদে গলায় হাড় আটকে যাওয়া ও অ্যালার্জি এড়াতে করণীয়”-
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মে ২০২৬, ১১:১৫:১৭ অপরাহ্ন
ডা: মো: আব্দুল হাফিজ (শাফী) :
ঈদে গরু-খাসির মাংস, বিরিয়ানি ও নানা খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত অনেকের গলায় বড় মাংসের টুকরা বা হাড় আটকে যায়। এছাড়া মাংসের প্রোটিনের এলার্জী থাকলে অথবা ঠান্ডা পানীয়র কারণে গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্টও বাড়তে পারে।
🔴 গলায় হাড় বা মাংস আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে কারা বেশি?
নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি-
১)শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি;
২)যারা খুব দ্রুত খাবার খেয়ে থাকেন বা কথা বলতে বলতে খাবার খান;
৩) যাদের দাঁতের সমস্যা বা ডেনচার(আলগা দাত ব্যবহার করেন) ব্যবহারকারী; বিশেষ করে বয়স্কদের মাঝে যাদের দাত নেই।
৪)স্ট্রোকের রোগী , পারকিনসনস বা গিলতে সমস্যা আছে এমন রোগী।
গলায় হাড় আটকে গেলে কী সমস্যা হতে পারে?
১) তীব্র গলা ব্যথা,
২)ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া বা খাওয়ার সময় ব্যথা,
৩) খাবার বা লালা গিলতে না পারা,
৪) গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি,
৫)কাশি বা শ্বাসকষ্ট,
৬)গলা দিয়ে রক্তপাত,
৭)বিরল ক্ষেত্রে খাদ্যনালী ফুটো হয়ে গুরুতর জটিলতা।
✅ এই ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন?
♦খাবার খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে ও ভালোভাবে চিবিয়ে খাবেন;
♦কথা বলতে বলতে খাবেন না;
♦শিশুদের হাড়যুক্ত খাবার সাবধানে দিন;
♦মোবাইল দেখতে দেখতে খাবেন না;
♦বাসার বয়স্কদের জন্য ছোট ছোট টুকরো করে মাংসের তরকারী পরিবেশন করুন এবং রান্না করার সময় মাংস যথেষ্ট পরিমাণ সিদ্ধ করে নিবেন।
✅অ্যালার্জি এড়াতে করণীয় :
♦অতিরিক্ত মাংস একসাথে খাবেন না,
♦ভালোভাবে রান্না করা মাংস খাবেন,
♦যাদের অ্যালার্জির ইতিহাস আছে তারা নতুন বা অজানা খাবার খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন,
♦ধোঁয়া ও পশুর লোম এড়িয়ে চলুন,
♦সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে antihistamine জাতীয় ট্যাবলেট খেতে পারেন।
🚫 গলায় মাংস বা হাড় আটকে গেলে কী করবেন?
✅শান্ত থাকুন;
✅পানি বা নরম খাবার অল্প করে চেষ্টা করতে পারেন তবে জোর করবেন না;
✅শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা বা গিলতে না পারলে দ্রুত হাসপাতালে যান,দেরি করে বাসায় বসে থাকবেন না;
✅প্রয়োজন হলে ENT বিশেষজ্ঞ Endoscopy করে নিরাপদে হাড় বের করবেন।
ঈদের আনন্দ যেন অসাবধানতায় দুর্ঘটনায় পরিণত না হয়। খাবার গ্রহণে সচেতনতা, ধীরে খাওয়া এবং সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া / বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই গলা ও খাদ্যনালীর জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
লেখক-
এফ.সি.পি.এস(ইএনটি);
সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ,
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।




