সপরিবারে সিলেট ছাড়লেন আলোচিত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুন ২০২৬, ৬:০০:০৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : সপরিবারে সিলেট ছাড়লেন আলোচিত সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। আজ মঙ্গলবার বেলা ২ টা ২০ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস বাংলার Bs- 536 ফ্লাইটে তিনি সিলেট ছাড়েন। পরে ফ্লাইটটি বিকেল ৩ টায় হযরত শাহজালাল (র.) এয়ারপোর্টে প্রস্থান করে।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মো. সারওয়ার আলম পোস্ট করেন, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার কাছে তিনি জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
তার আগে গত রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো . সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে সিলেটে মানববন্ধন হয়েছে।
সিলেটের জাফলং ও সাদাপাথর এলাকার পাথর লুট নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে গত বছরের ১৮ আগস্ট ওই জেলার ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার করে সরকার। একই দিন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সারওয়ার আলমকে সিলেটের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সারওয়ার আলমকে কেন ডিসির পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয় প্রজ্ঞাপনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে , সম্প্রতি হজরত শাহজালাল ( রহ . ) ও হজরত শাহপরান ( রহ . ) – এর মাজার ইস্যুতে সারওয়ার আলমের কিছু উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্ৰশাসন গত বৃহস্পতিবার শাহজালালের ( রহ . ) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সেই সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ সিলগালা করে নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজারভক্তরা। পরে সোমবার বিকেলে সেই ডেগ ও দানবক্সের টাকা গণনা করে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। যেটা নিয়ে খুবই প্রশংসায় ভাসছেন মো. সারওয়ার আলম। এই ১৭ লাখ টাকার সাথে জেলা প্রশাসনের ফান্ড থেকে মাজারের ব্যাংক হিসাবে আরও ৫ লাখ টাকা দেন তিনি।
এদিকে তাঁর প্রত্যাহারের খবর শুনে রোববার দুপুর থেকে সিলেটে নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করছেন নাগরিকরা। তার এই আদেশ প্রত্যাহারের দাবীও জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা ২ টায়ও সিলেটে ‘সিলেটের সর্বস্তরের জনতা’র ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৭ তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে র্যাবে যোগ দিয়ে ভেজালবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আলোচনায় ছিলেন। ২০১৯ সালে ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান চালানোর পর করোনা মহামারির মধ্যে হাসপাতালগুলোতে অভিযানেও নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
২০২০ সালে তখনকার সংসদ সদস্য হাজি মো . সেলিমের বাড়িতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন সারওয়ার আলম। হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে দেড় বছরের সাজা দেন তিনি। ২০২১ সালের মার্চে ২৭ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও সারওয়ার আলম পদোন্নতি পাননি। গণ- অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি।




