জৈন্তাপুর পৌরসভার আনুষ্ঠানিক সরকারি গেজেট প্রকাশিত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:১৬:১১ অপরাহ্ন
জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ, পৌর-২ শাখা থেকে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের সরকারি এই গেজেট প্রকাশিত হয়।
গেজেটে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলাধীন জৈন্তাপুর পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে জৈন্তাপুর উপজেলাধীন তফসিল বর্ণিত, ১ নং নিজপাট ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী, আর ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত মৌজাগুলো কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল পল্লী এলাকা সমূহকে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ উক্ত অভিপ্রায় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরকার বরাবর লিখিত আপত্তি উত্থাপন করতে পারবে মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল।
যেহেতু, উক্ত আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পন্ন করে সরকার তফসিল বর্ণিত এলাকা সমূহকে শহর এলাকা ঘোষণা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সেহেতু, সরকার, উক্ত আইনের ধারা ৩ এর উপ-ধারা (৪) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তফসিল বর্ণিত পল্লী এলাকা সমূহকে শহর এলাকা ঘোষণা করা হয়।
ফলে বহুল প্রতীক্ষিত জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নে সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার এই উদ্যোগকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানিয়ে জৈন্তাপুরের পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ,অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইল ফলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়নের ঐক্যন্তিক প্রচেষ্টায় অগ্রনী ভূমিকা রাখায় সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জৈন্তাপুর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নূরুল ইসলাম।
তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায় সহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট্র বিভাগের সকল কর্মকর্তাগণর প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
জৈন্তাপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সচেতন নাগরিক সমাজ সহ সর্বস্থরের জনগণ জৈন্তাপুর পৌরসভার সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পৌরসভায় জনগণ যেসব নাগরিক সুবিধা পাবেন।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, কেন্দ্রীয় সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব স্থানীয় বা আঞ্চলিক প্রশাসনের হাতে পৌঁছে দেওয়া প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধান করা, কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের চাপ কম, এবং সাধারণ মানুষ সহজে সরকারি সেবা ও উন্নয়নের সুফল পেতে পারবেন।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রধান সুবিধা সমূহ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গতি: স্থানীয় প্রশাসন নিজের এলাকার সমস্যা দ্রুত বুঝে কাজের অনুমতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
স্থানীয় সমস্যার সঠিক সমাধান: এলাকার মানুষ নিজেদের ভালো মন্দ ভালো বোঝে, তাই স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সঠিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা সহজ হয়েছে।
জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি: স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষ সরাসরি অংশ করতে পারবেন,ফলে গণতন্ত্র আর শক্তিশালী হবে। সেবার মান উন্নয়ন, মানুষ নিজ এলাকা থেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা ও প্রতিকার পাবেন। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে।



