মালনীছড়া বাগানে ‘চা পাতা চয়ন উৎসব’
মানুষের কল্যাণেই আমার আনন্দ- দানবীর ড. রাগীব আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯:৩২ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের প্রাচীনতম চা বাগান মালনীছড়া চা বাগানে চা পাতা চয়ন-২০২৬ উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চা শ্রমিকরা মেতেছিলেন উৎসবে । গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চা চয়ন উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দেশবরেণ্য সমাজসেবক-শিক্ষানুরাগী, গরিব-দুঃখী মানুষের বন্ধু, অসংখ্য স্কুল-কলেজে, মসজিদ, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘চা বাংলাদেশের অন্যতম একটি অর্থকরী ফসল। চা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখছে। চায়ের বাজার রক্ষায় উন্নতমানের পাতা তৈরি করতে হবে। উৎপাদন ভালো হলে বাগানের জন্য ভালো, যা শ্রমিকদের জন্যও কল্যাণকর।’
সমাজসেবায় জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মানবকল্যাণে নিবেদিত রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী আরো বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ করা আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। কাজের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ করাই আমার আনন্দ। আমরা সবাই যদি যার যার কাজে আন্তরিক হই, তবে অবশ্যই সুফল পাওয়া যাবে। বাগানের উন্নয়ন হলে শ্রমিকরা ভালো থাকবেন।’ তিনি বলেন, উন্নত মানের দ্রব্য উৎপাদনের জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।
চা চয়ন উৎসবে উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক দানবীর ড. রাগীব আলী চা গাছ এবং বাগান সঠিকভাবে পরিচর্যার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শ্রমিকদের আয় রোজগারের অন্যতম অবলম্বন চা বাগান। বাগান ভালো থাকলে এবং উৎপাদন ভালো হলে শ্রমিক ও তাদের পরিবার উপকৃত হবে। মালিকও উপকৃত হবে। বাগান না বাচলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন চা শ্রমিকরা। এদিকে, চা পাতা চয়ন উৎসবকে ঘিরে মালনীছড়ায় শ্রমিকদের মাঝে বিরাজ করছিল এক আনন্দঘন-উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়ভাবে ঐ উৎসব ‘পাতি উৎসব’ নামেও পরিচিত। সম্পূর্ণ নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের আলোকে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার।
অধীর বাউড়ীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন-মালনীছড়া চা বাগান ও দি সিলেট টি কোম্পানি লিমিটেডের অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. আজম আলী, সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও সুকুমার সরকার, হেড টিলা ক্লার্ক সৈয়দ সোয়েব আহমদ, ওয়ার্ড মেম্বার ঋদেশ মুদি, পঞ্চায়েত সভাপতি জিতেন সবর, পঞ্চায়েত সদস্য জয় মহাত্ম কুর্মী, ইউনিট প্রতিনিধি বিক্রম গোয়ালা প্রমুখ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা আমজাদ হোসেন, গীতা পাঠ করেন উজ্জ¦ল চক্রবর্তী এবং বাইবেল পাঠ করেন রমেল গোমেজ। অনুষ্ঠানে বছরের সেরা পাতা উত্তোলনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দানবীর ড. রাগীব আলী। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন, ১ম ভাগ্যবতী, ২য় আছমা বেগম ও ৩য় প্রিয়াংকা।




