বিয়ানীবাজারে ‘শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম’র নামে প্রবাসীদের হয়রানির অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮:৩৯ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে পুরোপুরি অস্তিত্বহীন ‘শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম’ নাম ব্যবহার করে প্রবাসীদের ভূমি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কয়েকজন প্রবাসীকে আসামী করে কথিত বিএনপি নেতা মো. মঈন উদ্দিন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিস্মিত হয়েছেন। তাঁরা শহীদ জিয়ার নামে এখানে কোনোদিন স্টেডিয়াম ছিলনা বলেও দাবি করেন। বর্তমানে মামলাজনিত স্থানটি মুক্ত জলাশয় হলেও কয়েক যুগ থেকে অভিযুক্তরা পারিবারিক পুকুর হিসেবে ব্যবহার করছেন।
জানা যায়, মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া গাজির মোকাম এলাকায় প্রায় দুই একর জায়গা সরকারি শত্রু-সম্পত্তি ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এলাকার কয়েক পরিবার তা ভোগদখল করতেন। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তাদের হিস্যা আবুল হোসেনের পরিবারকে সমজিয়ে দেন। এরপর সরকারি নিয়মানুযায়ী পুরো জায়গা তারা ভোগ করছেন। তবে, বিভিন্ন সময়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট নির্মাণে এ জমি থেকে মাটি দেয়া হয়েছে। এমনকি গ্রামীণ জলাশয়ে যাতায়াতের রাস্তাও নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এ জমিতে মাচ চাষ এবং পুকুরঘাট ব্যবহার করে পরিবারের লোকজন গোসলসহ প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদন করছেন।
সূত্রমতে, এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০১৪ সালে গ্রামীণ সড়ক বর্ধিতকরণের কাজ শুরু হয়। এ সময় অনেকের সাথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মঈন উদ্দিনের বাড়ির দেয়াল কিঞ্চিত ভাঙ্গা হয়। কিন্তু সবাই মেনে নিলেও মঈন উদ্দিন বেকে বসেন। এর পুরো দায় তিনি কাজের উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবুল হোসেনের ওপর ন্যস্ত করে ফোনে হুমকি প্রদান করেন। এ নিয়ে তখন আইনী লড়াইও চলে।
সম্প্রতি দেশে ফিরেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. মঈন উদ্দিন। এলাকায় তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করলেও তার কোন পদ-পদবি নেই। এরপরও তিনি বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। সম্প্রতি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজসেবী আবুল হোসেনের পরিবারের ভোগ করা জমিকে ‘শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম’ উল্লেখ করে তা উদ্ধার ও নানা বিষয় উল্লেখ করে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এ মামলায় ৯ জনকে আসামী করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মিছবা আহমদ, গাজী আহমদ, মক্তাদির হোসেন, আবুল হোসেন, আনোয়ারা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আব্দুস শুকুর, মনজির হোসেন ও মোস্তাক আহমদ।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিবদমান জমিটি মুক্ত জলাশয়, অভিযুক্তরা পারিবারিক পুকুর হিসাবে ব্যবহার করছেন। এখানে কোনদিনও শহীদ জিয়ার নামে স্টেডিয়াম ছিলনা। তাদের মতে, ব্যক্তিস্বার্থে ‘শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম’ নাম ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিবদমান ভূমিতে বাদি মঈন উদ্দিনের বিন্দুমাত্র হিস্যা নেই।
সর্বশেষ তথ্যমতে, আদালতের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন বিবদমান স্থান পরিদর্শন ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করছেন। শিগগির তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুল বাসিত বলেন, মামলাধীন জমি আবুল হোসেনের পরিবারের ভোগ দখলে রয়েছে। এ জমির মালিকানা গ্রামের অন্য কারো আছে বলেও আমার জানা নেই। তিনি বলেন, পঞ্চাশ বছর বয়সে দেখিনি এখানে ‘শহীদ জিয়া স্টেডিয়াম’ ছিল কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে এমন কথা অতীতেও শুনিনি। তিনি ব্যক্তিস্বার্থে শহীদ জিয়ার নাম ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন



