বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
বিগত ১৫ বছরে আলেমদের উপর চালানো সকল জুলুম-নির্যাতনের বিচার হবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ মে ২০২৬, ৯:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপার্টার : প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, আজকের বাংলাদেশে কেউ যদি মনে করে আলেমদের অসম্মান করে পার পেয়ে যাবে, তাহলে সে বোকার স্বর্গে বাস করে। তিনি বলেন, যারা আলেমসমাজের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী আচরণ করেন, তাদেরকে আমি বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার কখনো আলেমদের অসম্মান সহ্য করবে না। ইনশাআল্লাহ বিগত ১৫ বছরে আলেম-ওলামাদের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, সব জুলুমের বিচার হবে। আগামীতে এই বাংলাদেশে যাতে কোনোদিন এরকম জঘন্য ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (২৩ মে) নগরীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে সিলেট বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যে সমাজ ইমামদের গুরুত্ব দেয় না, সে সমাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিগত ১৫ বছর যে সরকার ক্ষমতায় ছিল, তাদের কাছে আলেমদের কোনো মর্যাদা ছিল না। তারা অসংখ্য ইমাম ও আলেমকে গ্রেফতার করে কারাগারে রেখেছিল। অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছিল। ধর্মীয় নেতা হিসেবে যেখানে ইমামদের সম্মান দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রতিনিয়ত অপমান, নির্যাতন ও নিপীড়ন করা হয়েছিল। মূলত ওটা কোনো সরকার ছিল না। ছিল একটা জালিম শাসন।
তিনি বলেন, এখন অবস্থা বদলেছে। বাংলাদেশের মুক্ত পরিবেশে গণতান্ত্রিকভাবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে জননেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর অন্যতম ছিল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনভাতা নির্ধারণ করা। ক্ষমতায় আসার পরেই ইতিমধ্যে সরকার চার হাজার-ইমাম-মুয়াজ্জিনকে বেতনভাতার আওতায় এনেছে। ইনশাআল্লাহ এই প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন ও জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরের সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা এদেশের শিশুদের জীবনচক্রের সঙ্গে জড়িত। একটি শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পরেই তার কানে মুয়াজ্জিনের আজান পৌঁছে। শিশুটির কথা বলার বয়স হলেই তাকে কালিমা, সুরা-কেরাত ও আদব-কায়দা শিক্ষা দেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরাই। কিন্তু তারা এ সমাজে অবহেলিত। এটা মানা যায় না।
তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ইমামরা সামাজিক সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই ক্ষেত্রে সরকার সর্বাত্মকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবে। যাতে প্রশিক্ষিত ইমামরা এই সমাজে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন।
গুণগত মানসম্পন্ন ইসলামি শিক্ষাকে এই সরকার গুরুত্ব দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী যেন মাদরাসা থেকে বেরিয়ে যেকোনো সেক্টরে কাজ করতে পারে, গুণগত মানসম্পন জীবন যাপন করতে পারে, সেই লক্ষ্যে সরকার সহযোগিতা করে যাবে।
সরকার সবসময় আলেমদের পাশে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকার আলেমপ্রেমী সরকার, ইসলামপ্রেমী সরকার। এখন বাংলাদেশে ইসলামের সুবাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। বিনা বাধায় ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে, ধর্মীয় শিক্ষার বিস্তার ঘটছে, যেটা জালিম শাহীর সময়ে ছিল না। ফলে জালিম আজ কোথায় গেছে, আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সিলেটের আলেম-ওলামাদের যেকোনো দাবি-দাওয়া ও মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়নে যা করা দরকার, সেটা আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ইমামরা এই সমাজের আলোকবর্তিকা। মসজিদের মিম্বর থেকে ইমামদের কন্ঠস্বরই সাধারণ মানুষের কাছে যায়। এটা অনেক বড় সম্মানের। আমরা যারা রাজনীতিবিদ আছি, আমাদের কথা সবাই শুনবে না। কিন্তু ইমামদের কথা সবাই শুনবে। তাই ইমামদের কাছে একটি অনুরোধ- কেউ যাতে ধর্মের মোড়কে মনগড়া কথাবার্তা সমাজে প্রচার করতে না পারে, সেদিকে আপনারা সোচ্চার থাকবেন।
তিনি বলেন, এই সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মূল্যায়ন করছে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, ইমামদের সম্মান দিলে আমরা সম্মানিত হবো, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এগিয়ে দিলে সমাজ এগিয়ে যাবে। তিনি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় মোকাবেলায় হৃদয়স্পর্শী ভাষায় খোতবা উপস্থাপনের জন্য ইমাম ও খতিবদের প্রতি আহবান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান সরকারের কাছে ইমামদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবী উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে নির্বাচিত হয়ে আসা ১২জন শ্রেষ্ঠ ইমামকে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
সৈয়দ ফখরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি সিলেটের উপ-পরিচালক মো. আনোয়ারুল কাদির। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়া করেন মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক কারী শফিকুর রহমান।




