লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে- বিরোধী দলীয় নেতা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৬, ৮:৪০:০৫ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ঢাকার জন্য ডাক আসবে। ঘরে ঘরে সেই লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, দেশ থেকে চাঁদাবাজ, দেশ থেকে দুর্নীতিবাজ, দেশ থেকে দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা থামবো না। মুক্তির মঞ্জিলে এই আন্দোলন না পৌঁছা পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ আমরা থামবো না।
শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সিলেটে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে একটি বিমানবন্দর থাকলেও সেটার কোনো অগ্রগতি নেই। আজকের এই সমাবেশ থেকে দাবী করছি অবিলম্বে সিলেট এম. এ. জি. ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করা হোক।আজকে এখানে দাঁড়িয়ে রাশেদ প্রধান বলে গেলেন, ঢাকা থেকে বাসে রওনা করেছিলেন কিন্তু আসতে আসতে অসুস্থ হয়ে গেছেন। কারণ? কারণ সিলেটের রাস্তা। এই রাস্তাটা দীর্ঘ দিন ধরে নাজেহাল হচ্ছে, কিন্তু তার কোন কূল-কিনারা হচ্ছে না। আমরা মহাজোটের সম্মেলনে বলেছি, সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার দরকার নাই। ঢাকা থেকে সিলেট আসলেই তা বোঝা যাবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনারা উভয়ে ভোট চেয়েছেন। সরকারি দল ভোট চেয়েছেন, বিরোধী দল ভোট চেয়েছেন। আমাদেরকে হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন, আমরা হ্যাঁ ভোট বিজয়ী করে দিয়েছি। এখন আমরা হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। এখন কোন ধানাই-পানাই মানি না। গণভোটকে আমরা অপমান করতে দেব না। ইনশাআল্লাহ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন, ইনশাআল্লাহ সফলতা লাভ করতে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আমরা কোন একনায়কতন্ত্র চাই না। আমরা দুঃখের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি- যারা নতুন ছিলেন, এখন যারা সরকার গঠন করেছেন কিন্তু তারা ভুলে গেছেন, সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ দলীয়করণ করে, দুর্নীতিকে তারা জাতীয়করণ করতে যাচ্ছে। আমরা মানবো না। হাসিনা তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করার চেষ্টা করেন, আপনাদেরকেও জনগণ তাড়াবে। আপনাদেরকেও ছেড়ে জনগণ কথা বলবে না।
তিনি আরও বলেন, ভালোয় ভালোয় আপনারা মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কিভাবে হাঁটতে হয়। আমরা আমাদের শহীদদের সাথে বেইমানি করব না। জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বেইমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সাথে বেইমানি করব না। আমরা কথা রাখবো ইনশাআল্লাহ। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখবো ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, তীব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। সেখানে সরকার ছাত্রদের, তরুণদের এবং জনগণকে ভয় পাওয়া শুরু করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের সরকার ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। যেই দেশে জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকার পতন হয়েছিল এবং নির্বাচনের পরবর্তীতে যে এই সরকার এসেছে, এই নতুন সরকার জনগণের রায়কে তারা ক্ষমতায় এসেই অবজ্ঞা করা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে যে গণরায় দিয়েছে সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে, সেই রায়কে তারা অবজ্ঞা করছে। যেখানে ভারতের সরকার তার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের মুখে পরাজিত হয়েছে, বিএনপি সে তার নিজের দলের ভিতর কোন সংস্কার আনলো না এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য যে অন্যতম ঐক্যমত্য, সেই ঐক্যমত্যও সে মেনে নিল না। যদি সে এই পথে হাঁটে, যদি সে জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, যদি সে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে। সংস্কার বনাম সংশোধন এই বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে এ দেশে। আমরা মনে করি এই বিতর্কের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমরা ঐক্যমত্যের মাধ্যমেই এই বিতর্কের অবসান করেছিলাম। সেই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটে রাজি হলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সংস্কার কি সেটা ভুলে গিয়েছে। তাদের ৩১ দফাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরেও সংস্কার কি তারা ভুলে গিয়েছে। তারা এখন শুধু সংশোধন চিনে, আর কিছু চিনে না। বিএনপি সমর্থিত কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী, তারাও প্রচার করছে দেশে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের মানুষ সংস্কারের জন্যই জীবন দিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্য বারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সরকারের উদ্দেশ্যে আমি কিছু কথা বলতে চাই। তিনিও চান, আমরাও চাই- একটা সুন্দর বাংলাদেশ। এটা তখনই সম্ভব যখন দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, যখন দুর্নীতি বন্ধ হবে, সন্ত্রাস বন্ধ হবে, চাঁদাবাজ বন্ধ হবে। এই জিনিসগুলি কিন্তু নিত্যদিনের ঘটনা। আপনি দালালদের কথা না শুনে, চাটুকারদের কথা না শুনে, নিজের বিবেক দিয়ে যে সংস্কারের কথাগুলি জনগণ বলছে, এই সংস্কারগুলি করেন। আজকে যদি তিনজন নেতা একসাথে হয়ে যায় শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে- আমাদের ছোট ভাই নাহিদ এবং মামুনুল হক সাহেব-তিনজন যদি একসাথে হয়ে যায়, এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সরকারের পতন হবে এটা অনিবার্য। এটা মনে রাখবেন। কারণ, তারা যেকোনো সময় ২০ লক্ষ, ৩০ লক্ষ লোকের সমাবেশ ঢাকায় ঘটাতে পারবে। টঙ্গীর রাস্তা বন্ধ করে দেবে, সায়দাবাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে, মিরপুরের রাস্তা বন্ধ করে দেবে। আপনি কোন দিকে দেশে থাকবেন? আপনাকে এটা বুঝতে হবে। আপনি অন্যদের দ্বারা প্ররোচিত হবেন না। দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেন, দেশের জনগণের কথা চিন্তা করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।



