শ্রীমঙ্গলে সেপ্টেম্বরে প্রাণঘাতী, বিষধর সাপ ও অজগরসহ ২৭ বন্যপ্রাণী উদ্ধার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৯:১৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রাণঘাতী বিষধর সাপ, বড় আকৃতির অজগরসহ মোট ২৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। এসব প্রাণীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, অজগর, বনবিড়াল, গন্ধগোকুল, মুখপোড়া হনুমান ও শালিক। লোকালয়, বসতবাড়ি, চা-বাগান, বাজার, সড়কের পাশ এবং মাছ ধরার জাল থেকে এসব প্রাণী উদ্ধার করা হয়।
ফাউন্ডেশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের উদ্ধার তালিকায় রয়েছে ফণিমনসা, পাঁচটি মনোক্লেড সাপের বাচ্চা, খৈয়া গোখরা ও তিনটি পদ্ম গোখরা। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে চারটি অজগর। এর মধ্যে দুটি ছিল বড় আকৃতির—একটির দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট, অন্যটির ১৬ ফুট।
১ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সুশেন্দ্র দেবের কলার আড়ত থেকে একটি সবুজ ফণিমনসা সাপ উদ্ধার করা হয়। ২ সেপ্টেম্বর জেটি রোডে আনোয়ার মিয়ার বাসা থেকে একটি বনবিড়ালের বাচ্চা এবং রাজাপুর এলাকার রাস্তা থেকে একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়।
৭ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল চড়ুইগাঁওয়ে বাবলু দেবের বাসা থেকে একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর লাহারপুরে সমর মোদকের বাসা থেকে দুটি বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়।
১০ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জের জাপানী বাড়ি, মুজাহিদ মঞ্জিল, পানিশালা এলাকা থেকে একসঙ্গে পাঁচটি মনোক্লেড সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। একই দিনে শ্রীমঙ্গল পূবাসা আবাসিক এলাকার পুকুরপাড় থেকে একটি ঘরগিন্নি সাপ উদ্ধার করা হয়।
১১ সেপ্টেম্বর ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগান থেকে একটি খৈয়া গোখরা উদ্ধার করা হয়। একই দিন শ্রীমঙ্গল ৬ নম্বর পুল এলাকা থেকে একটি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল নতুন বাজারে সুশেন্দ্র দেবনাথের কলার আড়ত থেকে একটি খয়েরী ফণিমনসা সাপ উদ্ধার করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর সিরাজনগর লামুয়া এলাকায় কদর আলী মেম্বারের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ ফুট লম্বা একটি অজগর।
১৮ সেপ্টেম্বর কালিঘাট পোস্ট অফিসসংলগ্ন উত্তম আচার্যের বাসা থেকে একটি পদ্ম গোখরা উদ্ধার করা হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল ইছবপুরে মৃত হারুন মিয়ার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর। একই দিনে ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগান থেকে একটি দাঁড়াশ সাপও উদ্ধার করা হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ রোডে রহমান বোর্ডিংয়ের পেছন থেকে একটি আইড ক্যাট স্নেক উদ্ধার করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর হাইল হাওড়ে রুমন মিয়ার জালে আটকে পড়া একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নওয়াগাঁওয়ে পরেশ দেবের বাড়ি থেকে একটি পাইন্না সাপ উদ্ধার করা হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর ভাড়াউড়া চা-বাগান থেকে একটি শালিক পাখি উদ্ধার করা হয়। একই দিনে ভুড়ভুড়িয়া চা-বাগানের শ্রমিক কলোনিতে সুসেন মুন্ডার বাসা থেকে একটি পদ্ম গোখরা উদ্ধার করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর একই শ্রমিক কলোনির সুরেশ নায়েকের বাসা থেকে আরও একটি পদ্ম গোখরা উদ্ধার করা হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কে সুবল দাশের দোকান থেকে একটি গন্ধগোকুল উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল পুরান বাজারে সুজিত সেনের বাসা থেকে একটি সবুজ ফণিমনসা উদ্ধার করা হয়।
আগস্টেও ১৭টি সাপ উদ্ধার
এদিকে গত আগস্ট মাসেও শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় বিষধর সাপ ও বিশাল আকৃতির অজগরসহ মোট ১৭টি সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। পরে এসব সাপ স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুসারে, আগস্টে উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর কয়েকটি পাওয়া যায় মানুষের বসতঘরের একেবারে ভেতরে। কখনো ঘরের সিলিংয়ে, কখনো খাটের নিচে, ঘরের কোণে কিংবা বাথরুমে সাপের উপস্থিতি দেখা গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরের ২২টি উদ্ধারের মধ্যে চারটি ছিল অজগর। এর মধ্যে ১৪ ও ১৬ ফুট লম্বা দুটি অজগর বিশেষভাবে বড় আকৃতির। একটি অজগর আবার হাইল হাওড়ে মাছ ধরার জালে আটকে পড়েছিল।
শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় বনাঞ্চল, চা-বাগান, জলাভূমি ও মানুষের বসতি পাশাপাশি থাকায় বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে বসতবাড়িতে বিষধর সাপ কিংবা বড় অজগর ঢুকে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাপ হত্যা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের দেওয়া আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তথ্য বলছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এসেছে। এসব প্রাণী উদ্ধার ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



