প্রস্তুতি সভায় সবার সহযোগিতা চাইলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম
১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস সাড়ম্বরে উদযাপনের প্রস্তুতি, স্পিকার প্রধান অতিথি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৩:২৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস ব্যাপকভাবে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট জেলা পরিষদ। এ উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সিলেট মুক্ত দিবস ব্যাপকভাবে উদযাপনে সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের কাছ থেকে যে পরামর্শ ও প্রস্তাব এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী সময়ে একটি উদযাপন কমিটি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানকে সফল করতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসভিত্তিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার, ব্যবস্থাপনা ও সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও লেখা সংরক্ষণ করে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে এবং অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ডিসেম্বরের আগে আরও কয়েকটি পরামর্শ সভা করা হবে বলে তিনি জানান।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন চোধুরী, এডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য ও রফিকুল হক, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর. সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও আহমেদ নূর, জেলা বারের সভাপতি এডভোকেট গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জুবায়ের বখত জুবের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুশনুর রুবাইয়াৎ, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি সালেহ আহমেদ খসরু, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, ড্যাব সিলেটের সভাপতি প্রফেসর ডা. মো: নাজমুল ইসলাম, সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জাম পিপিএম, এসএমপি সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: আবু সাঈদ, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মখলিছুর রহমান, সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ খান, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তযোদ্ধা মনাফ খান,এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন খান, ডা: মো: জহিরুল ইসলাম অচিরপুরী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন সোহাগ, আনসার ভিডিপি সিলেট জেলা কমাড্যান্ট শাহ নেওয়াজ সোসেন, ফায়ার সার্ভিস সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা: মো: এহসানুল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুছ বুলবুল, বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক, ইকবাল হোসাইন, আঞ্চলিক তথ্য অফিস সিলেটের তথ্য সহকারী মাহমুদুল ইসলাম ও ডলি রানী সূত্রধর, জেলা শিক্ষা অফিসের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর মেঘনাথ চক্রবর্তী, শিল্পকলা একাডেমির প্রতিনিধি প্রতীক এন্দ, জেলা বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি লে. অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিহাব আহমদ শিহাব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসার হোসেন খান, জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহমিন শারমিন তামান্না, সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আহাদ কুমকুম, মহানগর মহিলাদলের সভাপতি নিগার সুলতানা ডেইজি, সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রুজি, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবের আহমদ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ, সাধারণ সম্পাদক ফজলে আহসান রাব্বী, মহানগর জাসাসের সভাপতি রাসেল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রায়হান এইচ খান, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, মোহাম্মদ গোলজার আহমদ, এম সাইফুর রহমান তালুকদার, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সাধারণ সম্পাদক আশকার আমীন রাব্বি, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান শাহ দিদারুল আলম নবেল, সিলেট নজরুল পরিষদের আহবায়ক আমিরুল ইসলাম বাবু, কথাকলি, সিলেটর সভাপতি নীলঞ্জন দাস টুকু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, আমিনুল ইসলাম লিটন, অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর প্রমুখ।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট মুক্ত দিবস উদযাপন একটি স্মরণীয় উদ্যোগ। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্য, স্মৃতিচারণ ও লেখনীর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সিলেটের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো সম্ভব হবে।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল ও অহংকারের দিন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জানানোর জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা দিনটি সফলভাবে উদযাপনে নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



