বর্ণাঢ্য আয়োজনে শাবিপ্রবিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস পালিত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ৭:১৩:০৬ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : বর্ণাঢ্য আয়োজনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ছাত্রজনতার আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।
সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরনের উৎস হিসেবে যাঁর নাম নেওয়া হয়েছে, সেই সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে ‘শাহজালাল কর্নার’ উদ্বোধন করেন উপাচার্য।
সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. এছাক মিয়া এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, “শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজকের নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের নিপীড়নে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অপরিহার্য হয়ে উঠেছিল। এই আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের অসামান্য অবদান রয়েছে, যা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের মনে রাখতে হবে—প্রত্যেক ফেরাউনের জন্যই একজন মূসা থাকেন। যারা এই পরিবর্তনের যাত্রায় মূসার ভূমিকা পালন করেছেন, আমি তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “‘গুম’ এক সময় আফ্রিকার কিছু দেশে ঘটে যেতো, যা এখন ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আমাদের দেশেও ঘটেছে। এটি একটি ভয়াবহ ও দুঃখজনক সংস্কৃতি।”
আলোচনা শেষে শহীদ পরিবারকে উপহার প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে ‘জুলাই ৩৬ কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৫’ ও ‘জুলাই স্মৃতি প্রতিবেদন প্রতিযোগিতা’র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম ও অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিন, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ মাহবুব ফেরদৌসী, ইনস্টিটিউটসমূহের পরিচালকবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, দপ্তর প্রধানগণ, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ ও আহতদের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, যেখানে বিটিভির নিয়মিত সংগীতশিল্পী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা পরিবেশনায় অংশ নেন।



