বিএনপি ক্ষমতায় এসেই জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করা শুরু করেছে- নাহিদ ইসলাম
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০২৬, ৮:৪০:৩৬ অপরাহ্ন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, ভারতের সরকার তার ছাত্রদের, তরুণদের এবং জনগণকে ভয় পাওয়া শুরু করছে। তারা সতর্ক হচ্ছে, কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের সরকার ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। যেই দেশে জুলাই বিপ্লবের ফলে সরকার পতন হয়েছিল এবং নির্বাচনের পরবর্তীতে যে এই সরকার এসেছে, এই নতুন সরকার, নির্বাচিত সরকার জনগণের রায়কে তারা ক্ষমতায় এসেই অবজ্ঞা করা শুরু করেছে। ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে যে গণরায় দিয়েছে সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে, সেই রায়কে তারা অবজ্ঞা করছে। যেখানে ভারতের সরকার তার ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনের মুখে পরাজিত হয়েছে, মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এখন সব জায়গায় জনগণের রায়ের প্রতি সরকার শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে, আমরা দেখলাম এই দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি, সে তার নিজের দলের ভিতর কোন সংস্কার আনলো না এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য যে অন্যতম ঐক্যমত্য, সেই ঐক্যমত্যও সে মেনে নিল না। যদি সে এই পথে হাঁটে, যদি সে জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার বনাম সংশোধন- এই বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে এ দেশে। আমরা মনে করি এই বিতর্কের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমরা ঐক্যমত্যের মাধ্যমেই এই বিতর্কের অবসান করেছিলাম, যে দেশে সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সংবিধানের কোনো মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব হবে না, দেশের কোনো মৌলিক সংস্কার সম্ভব হবে না। ফলে আমাদের লাগবে সংস্কার পরিষদ অথবা গণপরিষদ। সেই সময় বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং গণভোটে রাজি হলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরে তারা সংস্কার কি সেটা ভুলে গিয়েছে। তাদের ৩১ দফাতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ থাকলেও, নির্বাচিত হওয়ার পরেও সংস্কার কি তারা ভুলে গিয়েছে। তারা এখন শুধু সংশোধন চিনে, আর কিছু চিনে না। বিএনপি সমর্থিত কিছু দালাল বুদ্ধিজীবী, তারাও প্রচার করছে দেশে সংশোধন প্রয়োজন, সংস্কার প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের মানুষ সংস্কারের জন্যই জীবন দিয়েছে। ইভেন এই বিএনপি গত ১৬ বছর ধরে সংস্কারের মূলা ঝুলিয়ে, ৩১ দফার মূলা ঝুলিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আজকে ঢাকাতে তীব্র গ্যাসের সংকট, গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে। মধ্যবিত্তের ওপরে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে এই বাজেটের মধ্য দিয়ে। দেশের মানুষের যে অর্থনৈতিক সংকট, সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিক যে সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে না। কারণ সরকার সংস্কার করবে না। ফলে সরকার যদি সংস্কার না করে, সরকার যদি বিচার না করে, ফলে জনগণের মধ্যে যে নতুন আস্থা তৈরি হয়েছিল, সেই আস্থা তারেক রহমানের সরকার ধরে রাখতে পারবে না।আপনারা দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটে যে গণরায়, সেই গণরায়ের বাস্তবায়ন করুন। আপনাদের মনঃপুত ডিসিশন যাই হোক না কেন, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানের সংস্কার করতে হবে এবং বিগত ১৬ বছর ধরে বিএনপি, জামায়াত সহ দেশপ্রেমিক বিরোধী দলগুলোর যে দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসলেও, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কোন রূপে গঠিত হবে এটা এখনও জনগণের কাছে পরিষ্কার হয় নাই। এবং আমরা দেখছি, বিএনপি দেশের সকল প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে। এই দলীয়করণের ফলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার যে উন্নতি আমরা চেয়েছিলাম, সেই উন্নতি আবার সম্ভব হবে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন সংস্কার করে পুনর্গঠন করতে হবে, অথবা এই নির্বাচন কমিশনারদেরকে পদত্যাগ করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, এই সরকারকে আমাদের পক্ষে আর সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না যদি না তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করে। ফলে আমরা আশা করব সিলেটবাসী যেভাবে জুলাই বিপ্লবে, যেভাবে রক্ত দিয়ে এই পুণ্যভূমি রক্ত দিয়ে দেশের গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, আবারও সংস্কারের পক্ষে, গণরায়ের পক্ষে আপনারা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন ইনশাল্লাহ। সেই আন্দোলনের পক্ষে আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ থাকব। দেশের নাগরিকদের পক্ষে, সার্বভৌমত্ব, সংস্কার এবং সুশাসনের পক্ষে আমরা ১১ দল ঐক্যবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং এই সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, আগামী ৫ বছরের মেয়াদ তারা সম্পন্ন করে যেতে পারবে না। ফলে তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি কি ৫ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান? নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় যে করুণ পরিণতি হচ্ছে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার জন্য, সেই পরিণতি তিনি ভোগ করতে চান? সিদ্ধান্ত তারেক রহমানকেই নিতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।



