সুনামগঞ্জে বাস সিএনজির সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩
সড়কেই থেমে গেলো খুশি ও স্নেহার উচ্চশিক্ষা যাত্রা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:০৬:৩০ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠীদের সাথে জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন আফসানা খুশী। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রার প্রথম দিনেই নিভে যায় স্নেহার জীবন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় জীবনের পরিসমাপ্তি হয় সম্ভাবনাময় ওই ছাত্রীর। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুই শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আফসানা খুশী সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সুনামগঞ্জ শহরের আরপিনগর এলাকা দোলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং নিহত অপর ছাত্রী সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তী। সে শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বিপুল চক্রবর্তীর মেয়ে। নিহত অন্যজন শহরের আলীপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম।
জানা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের ডিপ্লোমা ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা জাহান খুশী শহরের আরফিন নগর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে খুবই মেধাবী ছাত্রী। স্বপ্ন ছিলো পড়া লেখা করে খ্যাতনামা ইঞ্জিনিয়ার হবার। গতকাল ছিলো খুশীর ১৯ তম জন্মদিন। সহপাঠীদের সাথে জন্মদিন উদযাপন করতে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে ক্লাস করতে গিয়েছিলেন খুশী। কথা ছিলো রাতে বাবা মায়ের সাথে জন্মদিনের কেক কাটবেন। কিন্তু কে জানে জন্মদিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন প্রদীপ নিভে যাবে খুশির। তাই বাবার আক্ষেপের শেষ নেই।
আদরের মেয়েকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা ও স্বজনরা। পরিবারের একমাত্র মেয়ের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেননা তারা। নিহত খুশির বাবা দিলোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার আমার মেয়ের জন্মদিন ছিলো। তাকে নিষেধ করেছিলাম ক্লাসে না যেতে। সে বললো, বান্ধবীরা তাকে খাওয়াবে। এমন খাওয়ানি খাওয়ালো সে আর ফিরে এলো না। আমার সব শেষ। আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচবো। একই সিএনজি অটোরিক্সাতে করে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শহরের বাসায় ফিরছিলেন স্নেহা চক্রবর্তী। বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রার পথম দিনই দুর্ঘটনায় কবলে মৃত্যু হয় মেধাবী এই ছাত্রীর।
নিহত স্নেহার মা জয়ত্রী রাণী চক্রবর্তী জানান, স্নেহা এবার সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন। বুধবার ছিলো তার ভর্তির দিন। সকালে বাবার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন স্নেহা চক্রবর্তী। এভাবে স্নেহার চলে যাওয়া মানতে পারছেন না তিনি। তাই মেয়ের কথা স্মরণ করে বার বার হাসপাতালে মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন শোকে কাতর এই মা।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে হতবাক তাঁর স্বজন ও সহপাঠীরা। ঘাতক বাস চালককে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তারা। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থায় উদ্বেগ জানিয়ে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডা.শেখ আব্দুল লতিফ বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভর্তির পরই সড়কে প্রাণ ঝরলো ছাত্রীটির। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খুবই মর্মাহত। সিলেট সুনামগঞ্জ সড়ক খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা নিরাপদ সড়ক নিয়ে খুবই চিন্তিত। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় ঘাতক চালককে আটক করেছে সুনামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ। ঘাতক চালকে আটকের পাশাপাশি আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।



