শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
পদোন্নতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে লাগাতার অবস্থান ও কর্মবিরতির হুশিয়ারি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ৭:২০:২৪ অপরাহ্ন
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত প্রভাষকদের পদোন্নতি সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান এবং প্রয়োজনে কর্মবিরতির হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষকরা। রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য দেন পরিষদের সিলেট জেলা ইউনিটের আহবায়ক ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক শোহা হাওয়া চৌধুরী।
তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে ৩২ থেকে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার প্রভাষক পদোন্নতির সব যোগ্যতা অর্জন করেও এক যুগ পর্যন্ত বঞ্চিত রয়েছেন। নিয়মিত পদোন্নতি এখন শিক্ষা ক্যাডারে ‘সোনার পাথরবাটিতে’ পরিণত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গৌরবোজ্জ্বল বিপ্লব পর প্রায় সব ক্যাডারে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেয়েছেন। কোনো কোনো ক্যাডারে একাধিক টায়ারে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক কর্মকর্তারা পদোন্নতি বঞ্চিত।
সুপারনিউমারারি পদসৃজন করে অন্য ক্যাডারগুলোর মতোই শিক্ষা ক্যাডারেও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বৈষম্যের চক্র ভেঙে শিক্ষায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রের শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা শিক্ষা ক্যাডারের সঙ্গে বরারবের মতোই বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। অন্যান্য ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচ ২০২৩ সালে এবং ৩৭তম ব্যাচ ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সহযোগী অধ্যাপক, ব্যাংকাররা পঞ্চম ও ষষ্ঠ গ্রেডে চাকরি করছেন। এমনকি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও ষষ্ঠ গ্রেডে পৌঁছে গেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, কিছুদিন আগেই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষা ক্যাডারে ৫ বছরের পদোন্নতি ১২ বছরেও এসে হচ্ছে না।
তাই, এই বৈষম্যের স্থায়ী সমাধানে চার দফা দাবি জানান শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকরা। দাবির মধ্যে রয়েছে। অবিলম্বে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা সম্পন্ন করা, ১২ নভেম্বরের মধ্যে ৩৭তম ব্যাচ পর্যন্ত সব পদোন্নতিবঞ্চিত প্রভাষকের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি তথা জিও জারি, অবিলম্বে সুপারনিউমারারি পদসৃজন করা এবং পদোন্নতি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পদ-আপগ্রেডেশন করা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতারা বলেন, ইতোপূর্বে আমরা বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ গত ৩০ অক্টোবর মাউশিতে মানববন্ধন, অবস্থান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২ নভেম্বরের মাঝে ডিপিসি শুরু করার দাবি করেছি। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা অ্যাসোসিযেশন কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি পোষণ করেছেন।
দাবি আদায়ে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে প্রভাষক পরিষদের নেতারা জানান, অন্যথায় ১৬ নভেম্বর থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান শুরু হবে। ‘প্রয়োজনে নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মো. শামীমুল হাসান, অনুপমা সিনহা, মো. মোসলেহ উদ্দিন খান, অরবিন্দু কুমার দত্ত, এস এম আনোয়ারুজ্জামান, জাহেদা আক্তার সুমি ও স্বপ্না আক্তার, সদস্য সচিব সজীব দে রনি, কোষাধ্যক্ষ চঞ্চল রায় শুভ, সহ-কোষাধ্যক্ষ মো. মাসুদ পারভেজ, সহ-প্রচার সম্পাদক ছাদেকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুল হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ রহমান, দপ্তর সম্পাদক নিকসন দাশ, সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক মো. এরশাদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী আফরোজ, তাসমিয়া শারমিন ও উর্মি লাবনী চক্রবর্তী, নির্বাহী সদস্য মাহফুজা চৌধুরী প্রীতি, নিরুপম চৌধুরী, প্রনব কান্তি তালুকদার, রুমান মিয়া ও নাসরিন আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।




