রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বনেভোজন
চিত্তবিনোদন মানসিক প্রশান্তি তৈরি করে কর্মস্পৃহা : দানবীর ড. রাগীব আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বনেভোজন গত শনিবার ঐতিহাসিক মালনিছড়া কোম্পানি বাংলোর টেনিস গ্রাউন্ডে সম্পন্ন হয়েছে। বনভোজন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী, শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক, প্রবাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক দানবীর ড. রাগীব আলী।
এ সময় মানব সেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করতে চিত্তবিনোদনের কোন বিকল্প নেই। আজকের এই বনভোজন চিত্তবিনোদনের সহায়ক। এতে যেমন মানসিক প্রশান্তি তৈরি হয়, তেমনি কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করে। বনভোজনে অংশগ্রহণকারী সকলকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, ব্যস্ততাপূর্ণ কর্মময় জীবনে বনভোজন আনন্দ দানের সহায়ক মাধ্যম। আসুন আমরা মনপ্রাণ খুলে বনভোজনের অফুরন্ত আনন্দ উপভোগ করি।
বনভোজন অনুষ্ঠানের সভাপতি রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিইও বনমালী ভৌমিক বলেন, বিনোদন আমাদের মনের ক্লান্তি প্রশমিত করে। বনভোজনের মাধ্যমে একদিকে আমরা আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ লাভ করি। অন্যদিকে নতুন উদ্যমে কাজ করার স্পৃহা লাভ করি।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেকশন অফিসার সাহিত্যিক জসীম আল ফাহিম।
স্বাগত বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বনভোজন আয়োজন করলাম। এর ধারাবাহিকতা চালু রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী, একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, দানবীর ড. রাগীব আলী সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি তার কর্মের মাধ্যমে যুগ থেকে যুগান্তরে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন। দানবীর ড. রাগীব আলীর সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আবেদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় দানবীর ড. রাগীব আলীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডিন প্রফেসর ড. মো. বশির আহ্মেদ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে দানবীর ড. রাগীব আলী অবদান রেখেছেন, তা বাংলাদেশের অন্যান্য ধনী শ্রেণির জন্য অনুসরণযোগ্য। অনুষ্ঠানে দৈনিক সিলেটের ডাক এর অতিথি সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, কর্মই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। দানবীর রাগীব আলীও তার মহান কর্মযজ্ঞের মাঝে মানবমনে চিরকাল বিরাজ করবেন। অনুষ্ঠানে আরও অনুভূতি ব্যক্ত করেন জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এ কে এম দাউদ, পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. তারেক আজাদ, প্রফেসর ডা. মো. সায়েক আজিজ, লিডিং ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড মডার্ন ল্যাংগুয়েজের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সহিফাগঞ্জ এসডি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রউফ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রক্টর মাহবুবুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমদ, ল’ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিজনেস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শাহানশাহ মোল্ল্যা, সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসান, ইংলিশ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মিসেস শাম্মি আক্তার, ইইই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান নিয়াজ মোরশেদ, সিভিল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অমিত চক্রবর্তী, আর্কিটেকচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মহসিন আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রথমে গাঁদাফুলের মালা পরিয়ে অতিথিদের বরণ করা হয়। সেই সঙ্গে কেক কেটে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই’র শুভ জন্মদিন উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেনÑরাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। বনভোজনে ক্রীড়া পর্ব পরিচালনা করেন লোকমান আলী।




