সিলেটে বিভাগীয় সংলাপে সুজন সম্পপাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার
‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:০৯:২৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি এও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি ‘ফাউন্ডেশনাল ইলেকশন’। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক সমাজকে ‘ল্যাপ ডগ’ নয়, বরং ‘ওয়াচ ডগ’-এর ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল রোববার দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার বিষয়ে জেলা সুজন-এর উদ্যোগে বিভাগীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সিলেটের একটি হোটেলে আয়োজিত এ সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। ড. বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্খা। ড. বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্বৃত্তায়ন, টাকার অশুভ প্রভাব, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, নাগরিক সমাজের নিষ্ক্রিয়তা, নির্বাচনকালীন সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা এবং ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী, স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দুর্বৃত্তদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের দলীয়করণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংলাপে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সুজনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।




