ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেট
জটিলতা ছাড়াই হলো দুই শতাধিক হৃদরোগীর বাইপাস সার্জারি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬:৪২ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক ॥ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটে জটিলতা ছাড়াই দুই শতাধিক হৃদরোগীর বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ঢাকার চিফ কার্ডিয়াক সার্জন প্রফেসর ডা. ফারুক আহমদের তত্বাবধানে এসব অপারেশন সম্পন্ন হয়।
এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার এক সেলিব্রেশন (উদযাপন) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং ডা: ফারুক আহমদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এতে পদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, মিডিয়া কর্মী, প্রবাসীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজনেরা অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস শুরুর পর থেকে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটে বাইপাস সার্জারি শুরু হয়। গত রোববার পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২০৩টি বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংবর্ধিত চিকিৎসক প্রফেসর ডা. ফারুক আহমদ বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশে হৃদরোগ চিকিৎসার পথিকৃত মরহুম অধ্যাপক ডা: এম এ মালিককে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তাঁর (ডা: এম এ মালিক) অনুপ্রেরণাতেই সিলেটে দুই শতাধিক বাইপাস সার্জারি করা সম্ভব হয়েছে-যোগ করেন তিনি। অদূর ভবিষ্যতে সিলেটে ফুল টাইম কার্ডিয়াক সার্জারী শুরু হবে বলে তার আশা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী বলেন, অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমদের মতো মানুষ যারা মানুষের হৃদয়কে সেবা প্রদান করছেন। এটি খুবই মহৎ কাজ। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রকে সতেজ রাখার জন্য কাজ করছেন, তাদের মতো মানুষেরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অনেক লোক আছেন যারা হৃদয়কে নিজের অবহেলার জন্য নিজের খামখেয়ালীর জন্য ক্ষতবিধস্ত করেন, তাদের আরও সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, সমাজের কিছু লোক আছে যারা সমাজকে পিছন থেকে টেনে ধরে, অগ্রসর পৃথিবীর অগ্রযাত্রাকে তারা রুদ্ধ করে ; তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে ঘৃণিত মানুষ। সকল ঘৃণা তাদের প্রতি যারা এই পৃথিবীকে সামনের দিকে যাওয়া থেকে রুদ্ধ করে যাচ্ছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে, দেশে বর্তমানে উন্নত মানের চিকিৎসা হয়। তিনি বলেন, হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে হৃদবান্ধব খাদ্যাভাস গড়ে তুলতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। একই সঙ্গে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি জনসাধারণকে রোগ সম্বন্ধে ধারণা দিতে হবে। বিশেষ করে হৃদরোগ যাতে না হয় ; সেই কারণগুলো তুলে ধরতে হবে। তিনি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের হৃদরোগ চিকিৎসার ভূঁয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন-ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সেক্রেটারী জেনারেল, দেশসেরা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. ফজিলা-তুন-নেসা মালিক বলেন, আমার পিতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক স্বপ্ন দেখতেন যে, একদিন সিলেট হার্ট ফাউন্ডেশন অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ১৯৭২ সালের দিকে সবাই যখন ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত; তখন আমার পিতা হৃদরোগের ব্যাপকতা নিয়ে চিন্তা করতেন। আমার পিতা বিশ্বাস করতেন যে, এক সময় অসংক্রামকব্যাধি দেশে ঘাতক হবে বলে মনে করতেন এবং দক্ষ জনবল তৈরী করার চিন্তা করতেন। তারই ফল স্বরূপ আজকে আমাদের দেশে অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ তৈরী হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম প্রফেসর ডা. ফারুক আহমদ।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর পাবলিসিটি সেক্রেটারী প্রফেসর ডা. মোঃ আব্দুস সালাম এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি আবু তালেব মুরাদের যৌথ সঞ্চালনায় এবং হাফিজ আব্দুল বাছিরের সূচিত পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এর ডিরেক্টর প্রফেসর ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর ডিরেক্টর প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট আব্দুস সোবহান ভূইয়া, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, ডা. নাসিম আহমদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সভাপতি প্রফেসর ডা. মোঃ আমিনুর রহমান লস্কর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ মতিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেট এর ভিজিটিং সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. মো. খালেদ মহসিন এবং কার্যকরি কমিটির সদস্য ডা. মোঃ শামীমুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে ঢাকা থেকে আগত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর জয়েন্ট সেক্রেটারী মাসুদ মালিক, সিনিয়র কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. আবু ইউসুফ ফজলে এলাহি চৌধুরী, পেডিয়াট্রিক এন্ড এডাল্ট কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ এর প্রফেসর ডা. তওফিক শাহরিয়ার হক, সিনিয়র কনসালটেন্ট অব কার্ডিয়াক সার্জন ডা. হারুন রশীদ, কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেওয়ান ইফতেখার রাজা চৌধুরী, এনেসথেশিওলজিস্ট ডা. আহমদ উল্লাহ এবং ডেপুটি ডিরেক্টর মিসেস শাহজাদী সুলতানা ডলি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংকের পরিচালক মনির উদ্দিন আহমদ, পিপি বদরুল আহমদ, সাংবাদিক কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, এডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, রোটারিয়ান হানিফ মোহাম্মদ, প্রবাসী মো: ইসবাহ উদ্দিন, প্রবাসী ফখরুল ইসলাম, ওসমানীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ময়নুল আহসান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফুর রহমান নয়ন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. কৌশিক মজুমদার, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. ফারজানা তাজিন, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রাজিব দাস, ডা. দেবদুলাল দে পরাগ, মো: কৌশিক খান, কার্যকরি কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. মনঞ্জির আলী, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. শামীম আহমদ, সায়েন্টেফিক সেক্রেটারি প্রফেসর ডা. মো. হেলাল আহমদ, স্যোসাল সেক্রেটারি আব্দুল মালিক জাকা, সদস্য প্রফেসর ডা. সামসুন নাহার বেগম, প্রফেসর ডা. সায়েক আজিজ চৌধুরী, উপ পরিচালক আব্দুল মুনিম চৌধুরী এবং সহকারী পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আহমদ প্রমূখ।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট এর সহ-সভাপতি জামিল আহমদ চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, এ অনুষ্ঠান দেখে সবচাইতে বেশী খুশি হতেন ব্রিগেডিয়ার (অব:) ডা: এম এ মালিক। হৃদরোগকে পৃথিবীর এক নম্বর কিলার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এই রোগের বিস্তৃতি ঘটছে। তাই, হৃদরোগ থেকে বাঁচতে সবার আগে সচেতনতা সবচাইতে জরুরী।




