লুঙ্গি-গামছায় প্রতিবাদ: ভাইভা বোর্ডে ব্যতিক্রমী পোশাকে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ মে ২০২৬, ৮:১৩:২৫ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ভাইভা পরীক্ষায় একাডেমিক করিডোরে সাধারণত দেখা যায় ফরমাল পোশাকে সজ্জিত শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। সেই চেনা দৃশ্যের মাঝে ব্যতিক্রমী এক প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরলেন বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক।
বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) বিভাগের ফাইনাল ভাইভা পরীক্ষায় তিনি হাজির হন লুঙ্গি ও গামছা পরে। যা এদেশের মেহনতি মানুষের পোশাক।
এ ব্যতিক্রমী পোশাকে ভাইভায় উপস্থিত নিয়ে আশিকুর রহমান বলেন, “তোমরা চাষাভূষার টাকায় পড়াশোনা করো” শিক্ষকদের মুখে শোনা এই কথাটি তাঁকে বারবার ভাবিয়েছে। তবে বাস্তবতায় সেই কৃষক-শ্রমিকদের প্রতিই রাষ্ট্রের উদাসীনতা ও বৈষম্য তাঁকে নাড়া দিয়েছে গভীরভাবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অন্তত দু’জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনার পর যথাযথ তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আশিকের প্রশ্ন- যদি ব্যবস্থা নেওয়াই হয়ে থাকে, তবে কেন প্রতিবছরই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে? কেন নেই জবাবদিহি?
সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, শ্রমিক বা কৃষকের মৃত্যু যেন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্যাড রিঅ্যাক্ট’ আর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ। তথাকথিত সুশীল সমাজও বেশিরভাগ সময় নীরব থাকে।
এই বাস্তবতার প্রতিবাদেই তিনি বেছে নেন ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা। ভাইভা বোর্ডে লুঙ্গি-গামছা পরে উপস্থিত হয়ে তিনি মেহনতি মানুষের প্রতি সংহতি জানান।
আশিক বলেন, “আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন। তাঁরা আমার এই প্রতিবাদের ভাষাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন- যা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।”
শুধু প্রতীকী প্রতিবাদেই থেমে থাকেননি আশিক। তিনি দেশের কৃষকদের বর্তমান দুরবস্থার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দুর্দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোনার ধান। এ অবস্থায় পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
আশিকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে তেমনি মনে করিয়ে দিয়েছে- দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি মেহনতি মানুষদের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি এখনো কতটা প্রাসঙ্গিক।




