সন্ত্রাসী হামলায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আবুল : বিচারের দাবি এলাকাবাসীর
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মে ২০২৬, ১১:২১:৩৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার চেনা পথটিই যে জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে, তা ভাবতেও পারেননি আবুল হোসেন। বাড়ি ফেরার পথে পার্শ্ববর্তী খাগাইল গ্রামের কতিপয় যুবকের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে তিনি এখন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। হাসপাতালের আইসিইউর বাইরে স্বজনদের আহাজারি আর ভেতরের লাইফ সাপোর্ট- সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি পরিবারটি।
আবুল হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রণিখাই ইউনিয়নের গৌরীনগর গ্রামের মৃত আক্রম আলীর ছেলে। আবুল তিন মেয়ে সন্তানের জনক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগাইল বাজারের গরুর হাটে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে গৌরীনগর গ্রামের একজন ও খাগাইলের একজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৌরীনগর গ্রামের বাসিন্দা হওয়াতে রাতে নিরপরাধ আবুলের ওপর হামলা হয়। রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আবুল। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা পার্শ্ববর্তী গ্রাম খাগাইলের বেশ কয়েকজন লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন আবুল ও বমি করেন। নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউ না থাকাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শুক্রবার তার অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে তাকে পুনরায় ওসমানী হাসপালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন আবুল।
এদিকে হাসপাতালের করিডোরে বসে অপেক্ষা করছেন তার নিষ্পাপ তিন সন্তান সহ স্বজনেরা। এমনকি গ্রাম ও আশপাশের যারা আসছেন, তারাও আবুলকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এলাকার একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত আবুলের ওপর এমন নৃশংস বর্বরতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় ও শরীরে মারাত্মক জখম রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
এবিষয়ে আবুলের বড়ভাই নূর মিয়া জানান, আমার ছোট ভাই আবুল এখন হাসপাতালের বিছানায় জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা লড়ছে। ডাক্তাররা বলছেন তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক, সে এখন জীবনমৃত্যুর এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চোখের সামনে তাকে এভাবে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে দেখা যে একটা ভাইয়ের জন্য কতটা কষ্টের, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমরা পুরো পরিবার আজ দিশেহারা। আমার নিরীহ ভাইয়ের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি চাই। তার তিনটা মা’সুম বাচ্চা রয়েছে, যাদেরকে বুঝ দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমার নাই!
এবিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক সুমন চন্দ্র কর্মকার জানান, ভিকটিমের স্ত্রী থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আবুল এখনো আইসিইউতে রয়েছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।



