সিলেট মহানগর জামায়াতের সুধী সমাবেশ
দেশ ভালো নেই, সরকার ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে- ডা. শফিকুর রহমান এমপি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জুন ২০২৬, ৯:৪৭:২৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ৪৭ আমাদের ভিত, ৭১ আমাদের অহংকার ও ২৪ আমাদের পরিবর্তনের দিক নির্দেশনা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেলেও দেশ ও জনগণ ভালো নেই। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা, খুন, চুরি-ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আর সরকার ব্যস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে দলকানাদের বসাতে। তারা জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ গণভোট ‘হ্যা’ দাতাদের অপমান করে তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। এতে জনগণ বিক্ষুব্ধ হচ্ছে। এর ফল তাদেরকেই বহন করতে হবে। স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসনের ইচ্ছা থাকলে পরিনতির জন্যও ভাবতে হবে। জুলাই বার বার ফিরে আসবে। আমরা আর কোন মুল্যবান জীবন হারাতে চাইনা।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা পাওয়া যাচ্ছেনা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৫টি ব্যাংক নিয়ে সমন্বিত ব্যাংক হয়েছিল সেই ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকার জন্য ঘুরছে সমাধানের উদ্যোগ নেই। সরকার সমৃদ্ধ ইসলামী ব্যাংক দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে জুম মিটিং করে ইসলামী ব্যাংক দখলের বন্দোবস্ত হচ্ছে হচ্ছে। এক মাসের মাথায় আবারও জ্বালানী তেলের দামও বাড়ানো হয়েছে তাও রাতের আধারে। এটাও কি রাতের সরকার। এমন প্রশ্ন জনগণ করতে পারে। পলাতক, ফ্যাসিস্ট ও লুটপাটকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণরকে জোর জবরদস্তি করে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারে বসানোর ফলাফল ভালো হবেনা। যে গ্রাহকের ৫টি শেয়ার আছে, সেও ইসলামী ব্যাংকের একজন মালিক। সুতরাং একটি সমৃদ্ধ ব্যাংক দখল হয়ে যাবে গ্রাহকরা বসে থাকবেনা। এজন্য গ্রাহক হিসেবে আমাকেও রাজপথে নামতে হতে পারে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর বলেন, ভোটের আগে তারা গণভোটে হ্যা’এর পক্ষে প্রচারণা চালালেন। এখন বলেন নির্বাচন যদি না দেয়, সেই ভাবনা থেকে গণভোট মেনে নিয়েছিলাম। এটি জনগণের সাথে সুষ্পষ্ট প্রতারণা। তারা ইতোমধ্যে প্রতারণার ফলাফল পেতে শুরু করেছেন। একটি সরকারের ৩ মাসের মাথায় মন্ত্রীদেরকে ভুয় ভুয়া স্লোগান শুনতে হচ্ছে। অথচ আমরা মনে কষ্ট নিয়েও নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। আবার সরকারের জ্ঞানী মন্ত্রীরা বলেন সংবিধানে গণভোট নাই। গণভোট না কি অবৈধ। তাইলে শহীদ জিয়া কিভাবে গণভোট করেছিলেন, এর উত্তর তাদের কাছে নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে আদেশে জাতীয় নির্বাচন হলো সেই একই আদেশে গণভোট হলো। তাহলে একটা বৈধ আর একটা অবৈধ হয় কিভাবে। এটা প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণকে অপমানের শামিল। জনগণকে যারা অপমান করে তাদেরকে জনগণও ছেড়ে দেয়না। আমরা মনে কষ্ট নিয়েও জাতীয় স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেয়েছিলাম। কিন্তু কোন ছাড় দেবোনা। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবো। লড়াই থামবেনা। একজন দলকানা ঋণখেলাপী গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর করা হয়েছে। এমন নজির বিশ্বের কোথাও নেই।
তিনি বলেন, সরকার ভালো করলে সহযোগিতা করবো, মন্দ করলে প্রতিবাদ করবো, বাধাঁ দিবো। নিরব বসে থাকবোনা। জ্বালানী সংকট নিয়ে আমরা সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিগণ তেলের মজুদ নিয়ে মিথ্যা তথ্য আশ্বাসমূলক বক্তব্য দিয়ে জনগণের কাছে হাসির পাত্র হয়েছেন। উল্টো তারা জামায়াতকে দোষারূপ করতে শুরু করলেন। এখানেও ষড়যন্ত্র খুঁজতে থাকলেন। তারা জনগণকে চোর বানাতে লাগলেন। তখন আমরা বললাম যেহেতু বিরোধী দল সম্পৃক্ত তাইলে আর কেউ চুরি করে মজুদ করতে পারবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সিটি কর্পোরেশ ও জেলা প্রশাসকের চেয়ারে দলকানাদের বসিয়ে তারা ফ্যাসিবাদের পথে হাটঁছেন। ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে পতনের ছিদ্র কিন্তুখোলা থাকবেই। জুলাই থেকে শিক্ষা না নিলে এটা দুর্ভাগ্য। আমরা সংসদে গালাগালি ও কারও চরিত্র হরণ করতে বাধাঁ দিয়েছি। সংসদে কেউ আর গাণ বাজনা হয়না। রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের জন্য সরকারকেই কার্যকর ভুমিকা পালন করতে হবে। মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুধী সমাজকে জামায়াতের যোগদানের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন-সিলেট অঞ্চল টীম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সভাপতি এডভোকে আলিম উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু ও মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু প্রমুখ। শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতদের আকাঙ্খা পূরণে জামায়াতে ইসলামী কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারকে নব্য ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরে আসতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। জামায়াত জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদে ও রাজপথে থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম দল। জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু আমরা আছি আর ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হয়েছে, পালিয়ে গেছে। তাই এদেশে কারো উপর কোন জুলুম মেনে নিবেনা। ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।



