দেখে এলাম এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আম গাছ!
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৬, ৮:১৩:০৬ অপরাহ্ন
রাজীব ঘোষ
বৃহত্তর দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী হরিণমারী সীমান্তের মন্ডুমালা গ্রাম। এই গ্রামে অবস্থিত ২০০ কিংবা তারও অধিক বছরের পুরোনো সূর্য্যপুরী আমগাছ। পরিবারকে নিয়ে দেখে এলাম সেই গাছটি। ঠাকুরগাঁ থেকে বালিয়াডাঙ্গীর দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার আর বালিয়াডাঙ্গী থেকে হরিণমারী ১০ কিলোমিটার। সিলেট থেকে সেই পথ মাড়ানো কিছুটা কষ্ট হলেও এক ধরণের ভালোলাগাও আছে। বিশাল আকৃতির এ গাছ দেখে বটগাছের মতো মনে হলেও আসলে এটি আম গাছ। অনেকের মতো আমিও প্রথমে তো বটগাছ মনে করেছিলাম। গাছটির শাখা-প্রশাখা ৩ বিঘার ও বেশি জমিজুড়ে বিস্তৃত। যা দেখলে যে কারো আবাক লাগবে! এর বিশালতা আর ঐতিহাসিক গুরুত্ব এনে দিয়েছে এশিয়ায় সবচেয়ে বড় আমগাছ এর খেতাব।
ধারণা করা হয়, সূর্যপুরি জাতের আম এসেছে তৎকালীন ভারতবর্ষের উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার সূর্যপুর এলাকা থেকে। প্রায় ৩০০ বছর আগে এই আমের চারা বা বীজ কোনো এক আম যাত্রীর হাত ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছিল। এখন এই গাছটি সেই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। এটি লতা বোম্বাই প্রজাতির আমগাছ। উচ্চতা ৮০-৯০ ফুট। মূল গাছটির ঘের ৩৫ ফুটের বেশি। গাছের তিনদিক থেকে ১৯টি মোটা ডালপালা বেরিয়ে অক্টোপাসের মতো মাটি আঁকড়ে ধরে আছে। গাছটির একেকটি আমের ওজন ২৫০-৩৫০ গ্রাম। প্রতিবছর গাছটি থেকে ১২০-১৫০ মণ আম পাওয়া যায়। একবার গিয়ে এর নিচে দাঁড়ালে আপনি বুঝবেন প্রকৃতি কতটা শক্তিশালী আর সুন্দর। রীতিমতো অবাক হতে হয় প্রথম দেখায়, আমিও হয়েছি।
তবে শুধু আমার নয়, গাছটি এখন একটি স্থানীয় পর্যটন আকর্ষণ। কারণ এই আমগাছটি ছাড়া দেখার মতো আর কিছু নেই আশপাশ এলাকায়। প্রতিদিনই অনেক দর্শনার্থী আসেন এই গাছ দেখতে। গাছটির চারপাশে দেওয়া হয়েছে বেড়া। কাছ থেকে দেখতে হলে লাগছে প্রবেশ টিকিট। বর্তমানে গাছটির মালিকানায় রয়েছে দুই ভাই সাইদুল ইসলাম ও নুর ইসলাম। তারা এটি পেয়েছেন পৈত্রিক সূত্রে। গাছটির রক্ষণাবেক্ষণে বর্তমানে কয়েক জন শ্রমিক কাজ করেন।
মুন্ডুমালার এই সূর্যপুরি আমগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিস্ময় আর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। প্রকৃতি ও মানুষের সহাবস্থানে গড়া এই নিদর্শন ভবিষ্যতে আরও বড় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে যদি প্রকৃতির প্রতি, গাছটির প্রতি মানুষ আন্তরিক হয়ে উঠেন।




