শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্সে এবার ১৮ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুলাই ২০২৬, ৯:০৫:৫৩ অপরাহ্ন
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার দিনভর দীর্ঘ গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণনার ফলাফল ঘোষণা করেন।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ডেগ ও নতুন দানবাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা বের করে গণনা শুরু হয়। শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই টাকা গণনা কার্যক্রমে অংশ নেন।
গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির অফিশিয়াল হিসাবপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে নগদ বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সোনা-রূপা, গবাদি পশু এবং বিশ্বের আরও ১২টি ভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এসময় ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ৫৪.২০ ডুবাইর দিরহাম; ওমানী ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, ইন্দোনেশিয়া: ৪ হাজার রুপিয়া, ২০ ইউএস ডলার, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুরী ডলার, ২২ কাতারী রিয়াল, ৬ রিঙ্গিত এবং ৬০ পাকিস্তানী রুপি। এছাড়া নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে মূল্যবান অলংকার ও ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ৯ গ্রাম; স্বর্ণসদৃশ বস্তু ১০ গ্রাম; এবং রূপা ৩৯.৪ গ্রাম।
সর্বশেষ গণনার দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত মাজারে ভক্তদের দান করা গবাদি পশুর হিসাবও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে। একটি গরু যা লঙ্গরখানায় রান্না করে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগল পাওয়া যায় মোট ৬৫টি। এর মধ্যে ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
টাকা গণনার সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।


