সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট নিয়ে ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:০৫:০২ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা এবার সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিমান অফিস অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন তারা
গতকাল রোববার সিলেটে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর’স ফোরাম’র নেতৃবৃন্দ। এতে বেশ কয়েকজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীরা গত ২২ শে জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃক ম্যানচেস্টার ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে যে বিবৃতি প্রদান করেছে-তারও প্রতিবাদ জানান। লিখিত বক্তব্যে ইউকে এনআরবি’র সোসাইটির ডিরেক্টর এম জুনেদ আহমদ বলেন, বিমানের এমন বিবৃতিতে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত ক্ষুব্ধও। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটিতে লোকসান হচ্ছে মর্মে বিমান যে বক্তব্য দিয়েছে- সে প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ পার্সেন্ট ব্যবসা করে সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয় ? তিনি বলেন, বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে ক্রয় করেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতি মূহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পায়তাঁরা করছে। তারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক নয়। বরং যাত্রী সংখ্যা এতো বেশি যে- গেলো কয়েক মাস ধরে ওই ফ্লাইটের টিকিটই মিলছে না। লাখ লাখ পাউন্ডে ব্যবসা করা বিমান কর্তৃপক্ষ সব সময় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে, এখনো চালাচ্ছে। অথচ ইতালি, জাপান, কুয়েত, শারজাহ রুটে যাত্রী কেমন পায় সেটি আপনারা খোঁজ খবর নিলেই জানতে পারবেন। তথ্য উপস্থাপন করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমান সিলেট ম্যানচেস্টার রুটে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ও ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী বহন করে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করে। এই সময়ে বিমানের সিট ছিলো ৪৫ হাজার। এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাচ্ছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ও যাত্রী সঙ্কটে ছিলো না। সুতরাং বিমানের যুক্তি কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক মিজানুর রহমান জানান, ২০২০ সালে যখন ফ্লাইট চালু হয় ; তখন বিমানের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিলো। কিন্তু গত হজ মৌসুমের পরবর্তী সময় থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনো সিট খালি থাকেনি। সিলেট থেকে প্রতি সপ্তাহে রোববার ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে চলাচল করে। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যাণ্ডে বসবাসরত ৭-৮ লাখ প্রবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ এ রুটটি চালু করে। এখন ওই অঞ্চলের প্রবাসীরা ১২-১৩ ঘন্টার মধ্যে সিলেট এসে পৌছতে পারেন। যদি এ রুটটি বন্ধ হয়ে যায় ; তাহলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘন্টা। কারণ- তারা সড়ক পথে ৪ থেকে ৬ ঘন্টার জার্নি করে হিথ্রো হয়ে ঢাকা কিংবা সিলেট আসতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন সিনিয়র সিটিজেন, নারী ও শিশুরা। অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বেন সব বয়সী মানুষ। জার্নির বিরক্তির কারণে অনেকেই দেশে আসতে ভয় পান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন- সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, ইউকে এনআরবি’র সোসাইটির ডিরেক্টর মিজানুর রহমান ও ওল্ডহাম বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, বৃটিশ-বাংলাদেশি প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আখি রহমান। এ প্রসঙ্গে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২২ জানুয়ারি বিমানের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে, সেটিই আমার বক্তব্য। এর বাইরে তিনি আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।




