সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমির
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৬:৩৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সিলেটের জনসভায় বক্তব্যকালে সিলেট নিয়ে তার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি সিলেটের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বলেন, জামায়াত জোট সরকারে গেলে ‘সিলেটবাসীর যে সঙ্গত পাওনা আছে, সেগুলো সিলেটবাসীকে সসম্মানে তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। এ যেন কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কিন্তু নামে আন্তর্জাতিক, কাজে নয়। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়, তাহলে সব এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন?
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত-আসত, এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কি চিংড়ি মাছ? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের তাবা মেলে সামনে আগাতে চাই।” তিনি জানান, বন্ধ থাকা রুটগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুটও খোলা হবে।
নদী ও পরিবেশ সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো মরে গেছে। সিলেটের নদীগুলোও মরে আছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক দেওয়া হয় না। তার পেট ভরাট করে দেওয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী শাসন নয় নদী বান্ধব বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ। সুরমা-কুশিয়ারা যেন শুধু বইয়ের পাতায় না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায় সেই সুরমা-কুশিয়ারা বানানো হবে।
হাওরাঞ্চল, কৃষি ও মৎস্য খাতের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জের হাওর-বাওর এলাকা থেকে দেশের খাদ্যের একটা বড় অংশ আসে। অথচ এই এলাকাগুলো অবহেলিত। বাঁধ ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়। যারা বাঁধের টাকা পেটের ভেতরে ঢুকায় এই ইঁদুরগুলো আর বাঁধ কাটার সুযোগ পাবে না।
চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকানো যায় না। নারী-পুরুষ সবাই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। কিন্তু শিক্ষা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই। সন্তানরা অনাদরে বড় হয়। তারা এই দেশের নাগরিক তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।




