দুর্ঘটনারোধে পারিবারিক কঠোর নজরদারির তাগিদ হাইওয়ে পুলিশের
বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলে সিলেটে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন
কাউসার চৌধুরী
ঈদের পরদিন রোববার দুপুরের ঘটনা। ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াখালী থেকে তাহিরপুরের শিমুল বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাত্র কয়েক কিলোমিটার যাবার পরপরই বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে গাছের সাথে তীব্র গতিতে ধাক্কা খায়। আর এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শফিকুল ইসলাম (৩০)। সাথে থাকা সাইদুল ইসলামের হাতের হাড় ভেঙে গাছের ভেতরে ঢুকে যায়। গুরুতর আহত সাইদুলকে (৩০) ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও আর বাঁচানো যায়নি। মুহূর্তেই আনন্দ উদযাপন বিষাদে পরিণত হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাব এবং জনসচেতনতার অভাবে সিলেট অঞ্চলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আর এতে মোটরসাইকেল চালকসহ আরোহীদের জীবন সড়কেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি, তুলনামূলক কমবয়সীদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেয়া, যুবকদের মাঝে পাল্লা দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। যার ফলে প্রায় ৪২ পার্সেন্ট দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানির সাথে সাথে প্রতিদিন অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। বিশেষ করে যে কোনো উৎসবের মৌসুমে তরুণ বাইকারদের প্রতিযোগিতামূলক বাইক চালানো মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দায় রয়েছে। কমবয়সী সন্তানকে মোটরসাইকেল কিনে দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক, অভিভাবক ও সড়কে দায়িত্ব পালনকারী আইনশঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকতে হবে।
জানা গেছে, ঈদের আগে নতুন মোটরসাইকেল কেনেন শফিকুল। এই নয়া মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে শিমুল বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন শফিক। কিন্তু, দিরাই মদনপুর সড়কের গাগলী এলাকায় বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র গতিতে সড়কের পাশে থাকা গাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে শফিকুল ও ওসমানী হাসপাতালে সাইদুল মারা যান। নিহত শফিকুল ইসলাম শান্তিগঞ্জ উপজেলার মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর পুত্র ও নিহত সাইদুল ইসলাম ছিলেন দুবাই প্রবাসী তিনিও মুক্তাখাই গ্রামের আক্কেল আলীর পুত্র।
এর আগে গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি এলাকায় ১৮ ফেব্রুয়ারি ফরহাদ হোসেন (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী, ১৮ জানুয়ারি রাতে সিলেট নগরের তালতলা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দীপ্ত দাস (১৮) ও ইমন দাস (১৮), ৩০ জানুয়ারি গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমির সামনে মোটরসাইকেল আরোহী শানাজ আহমদ (২৫), ৩১ জানুয়ারি বিকেলে শহরতলীর মালিনীছড়া চা-বাগান এলাকায় মেহেদী আফনান (৩২) ও ফিরোজ আহমদ নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী এবং ১৮ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জের গোয়াসপুরে আব্দুল আহাদ (৪৩) ও সাব্বির আহমদ (২১) দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।
জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিওনের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বিষয়ে সিলেটের ডাককে বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। মোটরসাইকেল কেনার পরপরই সড়ক-মহাসড়কে চালকরা মোটরসাইকেল চালাতে শুরু করেন। আবার সড়কে সিএনজি অটোরিকশার উপস্থিতিও বেশি। যার ফলে সিএনজি অটোরিকশার সাথে মোটরসাইকেল চলাচলের সময় দুটো যানবাহনের চালকরা বেপরোয়া হয়ে যান। আবার একসাথে একাধিক মোটরসাইকেল চালক পাল্লা দিয়ে তীব্র গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। অভিভাবকরা তাদের প্রিয় সন্তানকে কমবয়সেই মোটরসাইকেল কিনে দেন। এরপর আর সন্তানের প্রতি নজর রাখেন না। এসব কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে। আর এতে অনেক মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী সড়কেই মারা যাচ্ছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির করতে হবে। বিশেষ করে পারিবারিকভাবে কঠোর নজরদারি করা গেলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমে আসবে।




