রংবাজ, কুবরা, বাংলার ডনসহ বাহারী নাম
বিশ্বনাথে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মে ২০২৬, ১০:১৫:৫৭ অপরাহ্ন
বিশ্বনাথ থেকে রফিকুল ইসলাম জুবায়ের : সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলায় জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। এবার অস্থায়ীসহ মোট ১২টি হাটে পশু বেচাকেনা হবে। একশ্রেণীর বিক্রেতা পশুর ছবি ও ভিডিও ফেইচবুকে ও ওয়াটসআপে আপলোড দিয়ে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছেন। পাশাপাশি রংবাজ, কুবরা,বাংলার ডন, লালু মাস্তানসহ নানান বাহারী নাম দিয়েছেন বেপারীরা। সোমবার পর্যন্ত পশু বেচা-কেনার বর্তমান বাজার নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই সন্তুষ্ট নন। ক্রেতাদের মত কোরবানীর পশুর দাম এবার একটু বেশী। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি বাজার এখনও জমে উঠেনি। অপরদিকে নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাজারে পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় পশুর ৩টি স্থায়ী হাট রয়েছে। এবার স্থানীয় প্রশাসন লিলাম ডেকে আরো ৯টি হাট ইজারা দিয়েছে। স্থায়ী হাঠগুলো হচ্ছে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বিশ্বনাথ পুরান বাজার, রামপাশা ইউনিয়নের বৈরাগী বাজার ও লামাকাজী ইউনিয়নের লামাকাজী বাজার। এবার আরো ৯টি অস্থায়ী বাজারগুলো হচ্ছে লামাকাজী ইউনিয়নের মাহতাবপুর মৎস আড়ৎ, খাজাঞ্চি ইউনিয়নের মুফতির বাজার ও প্রীতিগঙ্জ বাজার, অলংকারী ইউনিয়নের পনাউল্লা বাজার, রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা বাজার, দৌলতপুর ইউনিয়নের সিঙ্গেরকাছ বাজার, দেওকলস ইউনিয়নের বাগিছা বাজার ও দশঘর ইউনিয়নের মাছুখালি বাজার এবং মিয়ার বাজার। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এই উপজেলায় ৪৩৬টি গ্রামে ৪৪ হাজার ৫৩৭টি পরিবার বসবাস করেন। প্রতিবছর এই উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার পশু কোরবানি হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু বিশ্বনাথে মজুদ রয়েছে। বিশ্বনাথ পুরান বাজারের গরু ব্যবসায়ী জিলু মিয়া জানান,কোরবানীর ঈদের দুই সপ্তাহ পূর্ব থেকে মূলত বাজার জমে উঠে। এবারও সেই অবস্থা। মজুদের তুলনায় বিক্রি একটু কম। আশা কাল পরশুর মধ্যে বিক্রি বেড়ে যাবে।
সাংবাদিক তজম্মুল আলী রাজু জানিয়েছেন, গত এক দশকে বিশ্বনাথে বাণিজ্যিকভাবে বেশ কয়েকটি গরুর খামার গড়ে উঠায় এই এলাকার ক্রেতারা কোরবানীর জন্য দেশীয় গরুর বেশী পছন্দ করেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পর্যাপ্ত পরিমাণ মৌসুমী ও সৌখিন গরু ব্যবসায়ী হাটে গরু নিয়ে আসছেন। এদিকে গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে একশ্রেণীর বিক্রেতা পশুর ছবি ও ভিডিও ফেইচবুকে ও ওয়াটসআপে আপলোড দিয়ে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অনেক প্রবাসী পছন্দের গরুও কিনছেন। সৌখিন আর স্থায়ী ব্যবসায়ীরা রংবাজ, কুবরা, বাংলার ডন, লালু মাস্তানসহ নানান বাহারী নাম দিয়ে গরুর ক্রেতা বাড়াতে বিক্রেতারা নানান ফন্দিফিকির করছেন । আজ (সোমবার) পর্যন্ত পশু বেচা-কেনার বর্তমান বাজার নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই সন্তুষ্ট নন।
বিশ্বনাথের স্থানীয় কারিকোনা গ্রামের হাজী বাবুল মিয়া জানান গতবারের তুলনায় কোরবানীর পশুর দাম এবার একটু বেশী। এদিকে পশুর হাঠের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি বাজারে পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে বলে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন।




