একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশগত সমস্যা বিষয়ে গোয়াইনঘাটে বেলার প্রচারাভিযান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:১৬:২৩ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র উদ্যোগে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং পরিবেশগত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গোয়াইনঘাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক কর্মসূচীতে উক্ত বিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৬ ও নারী ৫৪ জন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রতন কুমার অধিকারী। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মো. সিরাজুল ইসলাম।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলা সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যডভোকেট শাহ সাহেদা। স্বাগত বক্তব্যে তিনি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক এবং পরিবেশগত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেন। তিনি আরও বলেন মানব জীবনে সুস্থ্য পরিবেশের গুরুত্ব, পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণ। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সুন্দর রাখা, ক্ষতি না করে সৌন্দর্য্যকে উপভোগ করার আনন্দকে নিয়ে ভাবতে হবে, পরিবেশ প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা ভাবনাকে নিজেদের মনে, মগজে স্থান দিতে হবে।
পরবর্তীতে দুটি ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব ও সিলেটের পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা বিষয়ে ভিডিও চিত্র এবং প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর চিত্র দেখাানো হয়। এরপর ভিডিও চিত্রে উপস্থাপিত বিষয়ের উপর নিজেদের মতামত তুলে ধরেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সব্যসাচী মিস্ত্রী বলেন- “ভিডিও চিত্র দেখে আমরা জানতে প্লাস্টিক আমাদের কীভাবে ক্ষতি করছে। একবার ব্যবহার করে যে প্লাস্টিকের জিনিস ফেলে দেওয়া হয় অথবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। আর এ প্লাস্টিক পুড়ানোর সময় ধোয়া নির্গত হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায় । এগুলো থেকে আমাদের শরীরে অসুখ দেখা দেয়। তাই আমরা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করবো না”।
একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাইজা জান্নাত বলেন-“ভিডিও দেখে আমার খারাপও লেগেছে, ভালোও লেগেছে। তার কারণ হলো ভিডিওতে আমরা সুন্দর পরিবেশের ছবি দেখেছি আবার পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে এরকম ছবিও দেখেছি। নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে আমাদের নদীর ক্ষতি হচ্ছে, আমরা নদীর মাছ হারাচ্ছি, টিলা কেটে ফেলা হচ্ছে, প্রাকৃতি সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, টিলা ধসে পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছেন। এজন্য খারাপ লেগেছে। অন্যদিকে আমরা অনেক নদী দেখেছি যেগুলোর নামও আমরা জানতাম না। কোন জেলায়, কোন উপজেলায় এমন কী কোন ইউনিয়নে কোন নদী অবস্থিত সেটা জানতে পেরেছি। আমাদের বন, টিলা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। প্লাস্টিক যে আমাদের শরীরের জন্য কত বড় ক্ষতি করছে সেটা জেরেছি। এজন্য ভালো লেগেছে”।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন- “ তোমরা ভিডিওতে দেখেছো একটা সমুদ্র সৈকতে কীভাবে পাস্টিক পড়ে আছে, নদীর তলদেশে গিযে জমা হচ্ছে এসব প্লাস্টিক। আর এসবের বিকল্প কী হতে পারে সেটাও দেখেছো। আমরা যদি প্লাস্টিক ব্যবহার না করি তাহলে উৎপাদনও কমবে। পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ভালো। এটা অনেক সাশ্রয়ী। দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ,আমরা যদি সুন্দরভাবে সাজাতে পারি। আমাদের দেশ ছয় ঋতুর দেশ,দুই মাস পরপর ঋতুর পরিবর্তন হয়, এরকম দেশ পৃথিবীর আর কোথাও নেই।
তিনি আরও বলেন, তোমরা এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবে, তোমাদের কাজ করার এখনই সময়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ জাগতিক দায়িত্বে জড়িয়ে পড়ে, স্বার্থপর হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে প্লাস্টিকই শুধু নয় পরিবেশের সব উপাদানই নস্ট হচ্ছে। পরিবেশ আইনে পরিবেশ নষ্ট করা দন্ডনীয় অপরাধ। প্রকৃতি ধংস করা শুধু অন্যায় বা অপরাধই নয় এটা পাপ। প্রকৃতি আমরা সৃষ্টি করিনি, তাই অমরা ধ্বংস করার অধিকার নেই। কোনো জিনিস দেখার জন্য দেখবে না, শোনার জন্য শুনবে না। তোমরা কি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আর প্লাসটিক ব্যবহার করবে না? আগামীকাল থেকে দেখতে চাইনা তোমরা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করছো”।
সবশেষে সভাপতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. সিরাজুল ইসলাম উপস্থিত সকলকে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান ও সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




