সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা হিসেবে ১১ বছরের জয়নাব চৌধুরীর বই প্রকাশ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৫, ৪:১৪:১৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : টাওয়ার হ্যামলেটসের কেইলি প্রাইমারি স্কুলের বার্ষিক সামার ফেয়ারের দিনটি এবার শুধুই উৎসব নয়, ইতিহাস রচনারও মুহূর্ত হয়ে উঠল। কারণ এই দিনটিতেই স্কুলের Year 6-এর ছাত্রী, মাত্র ১১ বছর বয়সী জয়নাব চৌধুরী তার লেখা প্রথম বই “My Primary Journey Through Cayley” আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। এই ক্ষুদে সাহিত্যিক শুধু টাওয়ার হ্যামলেটস নয়, সমগ্র ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটিতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রকাশিত লেখিকা হিসেবে, আর একইসঙ্গে সিলেট অঞ্চলের কনিষ্ঠ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি লেখিকা হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নাম তুলেছেন।
বইটিতে জয়নাব নিজের প্রাইমারি স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরেছেন সহজ-সজীব ভঙ্গিতে—ক্লাসে পড়া, SATs পরীক্ষা, শিক্ষকদের প্রেরণা, হোমওয়ার্ক, প্রশংসার ভাষা, এমনকি কোভিড-১৯ মহামারির সময়েও তার অধ্যবসায়—সবই উঠে এসেছে তার লেখায়। শিশুসুলভ স্বতঃস্ফূর্ততায় লেখা হলেও বইটি শিক্ষা ও আত্মবিকাশের এক পরিণত বার্তা পৌঁছে দেয় শিশুদের প্রতি।
জয়নাব চৌধুরীর পারিবারিক পটভূমিও অত্যন্ত শিক্ষামূলক ও গৌরবোজ্জ্বল। তিনি দ্য কেয়ারার সেন্টার লন্ডনের সভাপতি হাসান চৌধুরীর কন্যা। তাঁর দাদি রুনা বেগম কমলগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের সম্মানিত শিক্ষক এবং প্রয়াত দাদা ছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সুপারিন্টেনডেন্ট। পারিবারিক শিকড় ছলিমবাড়ি, কমলগঞ্জ, সিলেট।
বইটির প্রকাশনা উৎসবটি ছিল আবেগ, সম্মাননা আর অনুপ্রেরণার এক মেলবন্ধন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন কেইলি প্রাইমারির প্রধান শিক্ষক টম ফস্টার, আর উপ-প্রধান শিক্ষক নিকি পিয়ার জয়নাবের জন্য একটি হৃদয়স্পর্শী ভূমিকা উপস্থাপন করেন। প্রধান অতিথি কাউন্সিলর মায়ুম তালুকদার, যিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের ডেপুটি মেয়র এবং শিক্ষা, যুব ও আজীবন শিক্ষাবিষয়ক স্ট্যাচুটরি ডেপুটি মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন, বলেন, “জয়নাব আমাদের জন্য শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, তরুণ সৃজনশীলতার একটি উজ্জ্বল প্রতীক।”
আরও উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন, কাউন্সিলর জেমস কিং, এবং স্কুল গভর্নর ও কমিউনিটি প্রতিনিধি রেজাউল হুসেইন। বই প্রকাশের পর অতিথিদের জন্য ছিল লেখিকার পাঠ, বই স্বাক্ষর, ছবি তোলা, এবং বইয়ের প্রচ্ছদের অনুকরণে তৈরি এক বিশেষ কেক কাটার পর্ব। বই বিক্রির সকল অর্থ কেইলি স্কুলের শিক্ষামূলক প্রকল্পে ব্যয় করা হবে, যা লেখিকার নিঃস্বার্থ মনোভাবেরই প্রমাণ।
জয়নাব বলেন, “এই বইটি আমার স্কুলের প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক। আমি চাই, অন্য শিশুরাও এই বই পড়ে অনুপ্রাণিত হোক, নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হোক।” তার বার্তা ছিল স্পষ্ট—একটি হেডটিচার অ্যাওয়ার্ড, একটি প্রশংসাসূচক কার্ড কিংবা শিক্ষকের একটি হাসিমাখা বাক্য একটি শিশুর আত্মবিশ্বাসে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, সেই চমৎকার উপলব্ধি আছে প্রতিটি পাতায়।
“My Primary Journey Through Cayley” বইটি এখন লন্ডনের বিভিন্ন বিদ্যালয়, লাইব্রেরি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে। এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং শিশুদের শিক্ষামূলক উদ্বুদ্ধকরণের এক নিঃস্বার্থ প্রয়াস।
১১ বছর বয়সে বই লিখে ও প্রকাশ করে জয়নাব চৌধুরী যেন নিজেই হয়ে উঠেছেন তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। শিক্ষার গুরুত্ব, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার সম্মিলনে গড়ে ওঠা এই কিশোরী লেখিকা শুধু আজকের নয়—ভবিষ্যতেরও এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতীক।




