শ্রীমঙ্গলে খাবার সংকটে বন ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকছে অজগর
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৬:১২:০৬ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আবাস সংকোচন ও খাবারের সংকটের কারণে লাউয়াছড়া উদ্যান ও টিলা-পাহাড় থেকে লোকালয়ে ঢুকে আটকা পড়ছে অজগর সাপ। উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকায় গত এক সপ্তাহে ছোট বড় ৫টি অজগর লোকালয়ে ঢুকে আটকা পড়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই আটকা পড়েছে বাগান-হাওর অঞ্চলের আশপাশে কৃষি জমির ফসলের ক্ষেতের সুরক্ষার জালে।
গতকাল শুক্রবার পৃথক দুই এলাকা থেকে দুইটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও এলাকা এবং অপরটি একই ইউনিয়নের হাইল হাওরের ভুবন বেরি এলাকা থেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গলের সদস্যরা।
একের পর এক অজগর লোকালয়ে চলে আসায় জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। এসব বন্যপ্রাণীকে কারো বাড়ি অথবা ক্ষেতের জমি থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ লোকজনের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও ফকির বাড়ি সংলগ্ন ধান ক্ষেতে শ্রমিকরা হঠাৎ বিশাল আকৃতির অজগর দেখে আতঙ্কিত হয়ে ধান কাটা বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল তার সঙ্গে পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব এবং রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
স্বপন দেব সজল জানান, ধারণা করছি উদ্ধারকৃত সাপটি প্রায় ১২ ফুট লম্বা এবং ২৫ কেজি ওজনের। সাপটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, একই দিন বেলা দেড়টার দিকে একই ইউনিয়নের হাইল হাওরের ভুবন বেরি এলাকায় মাছ ধরার জালে ধরা পড়লো আরো একটি আজগর।
স্থানীয়রা জানান, হাওরের বেরি এলাকায় মাছ ধরার জাল তুলতে গিয়ে জেলেরা আঁৎকে ওঠেন। তারা জালের ভেতরে শক্তভাবে সাপ জড়িয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গলের পরিচালক স্বপন দেব সজল তার সঙ্গে পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব এবং রিদন গৌড়কে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করেন।
তিনি জানান, এই সাপটি প্রায় ৬ ফুট লম্বা এবং ৮ কেজি ওজনের। সাপ দুইটিকে বন বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বপন দেব সজল।
জানা যায়, এর আগে ২৩ নভেম্বর উপজেলার নওয়াগাঁও এলাকায় বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অফিসের পাশের একটি ধান ক্ষেত থেকে বিশাল অজগর এবং ২৪ নভেম্বর ইছবপুর এলাকায় ঝোপঝাড় পরিষ্কার করার সময় একটি দেওয়ালের ওপর থেকে বিশাল আরেকটি অজগর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী ফাউন্ডেশন শ্রীমঙ্গলের সদস্যরা।
পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীদের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া অজগরগুলো লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান আর পাহাড়-টিলাগুলো অজগরের আবাস ও আশ্রয়স্থল। বনে খাবারের সংকটের কারণে অজগরগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া অজগর দুটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।




