হত্যাকারীরা অধরা
কানাইঘাটে ছয়ফুল হত্যার নেপথ্যে ইয়াবা বিক্রির ভাগ-বাটোয়ারা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:৫১:৫০ অপরাহ্ন
কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা: কানাইঘাটে ইয়াবা বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুন হন ছয়ফুল ইসলাম। গত রোববার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের রাতাছড়া গ্রামে খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এদিকে, ছয়ফুল হত্যার পরদিন গতকাল সোমবার সকালে তার স্বজনরা ও সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা হত্যাকারী সাকিল আহমদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে। এ সময় তারা সাকিল আহমদের পিতা আব্দুল হান্নান হানাইকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে তুলে দেন। একাধিক সূত্র মতে, ভারত থেকে চোরাইপথে আনা ইয়াবা বিক্রির ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এ নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতাছড়া গ্রামের মৃত ছলু মিয়ার পুত্র ছয়ফুল ইসলাম ও একই গ্রামের আব্দুল হানাইর পুত্র সাকিল আহমদ ও তাদের সহযোগী সুমন আহমদ একই সাথে দীর্ঘদিন থেকে সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন ধরণের চোরাই পণ্য দেশে এনে বিক্রি করেন। সম্প্রতি ইয়াবা বিক্রির ২ লক্ষ টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ছয়ফুল ইসলামের সাথে সাকিল ও সুমনের বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে গত রোববার সন্ধ্যায় তারা ছয়ফুলকে বাড়ির সামনে থেকে ধরে এনে সাকিলের বাড়ির বারান্দার একটি খুঁটিতে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। ঐ সময় টাকা লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সাকিল ও সুমন ধারালো দা দিয়ে ছয়ফুলের মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ছয়ফুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কানাইঘাট থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে ছয়ফুলের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানান, ছয়ফুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যাকারী সাকিল আহমদের পিতাকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। তাকে হত্যাকান্ডের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, কাড়াবাল্লা, রাতাছড়া সহ আশপাশের সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারীরা বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব চিহ্নিত চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এ নিয়ে হত্যাকান্ডসহ প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটে।




