শেভরনের অর্থায়নে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন, নতুন জীবন ফিরে ফেলেন সিলেট অঞ্চলের ৬০ নারী-পুরুষ-শিশু
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১০:২৭ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেভরনের অর্থায়নে সিলেট ও নবীগঞ্জের ৬০ জন অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশু কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে ফেলেন। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার নগরীর এয়ারপোর্ট রোডস্থ গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুইস কন্টাক্টের স্মাইল প্রজেক্ট ও জালালাবাদ প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র ও হাসপাতালের(জেডিআরসিএইচ) সহযোগিতায় রিস্টোরিং মবিলিটি: আর্টিফিশিয়েল লিম্ব সাপোর্ট ইন্টারভেনশন’(চলাচল সক্ষমতা পুনরুদ্ধার: কৃত্রিম অঙ্গ সহায়তা কর্মসূচি) শীর্ষক এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন-সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় ও মনিটরিং) মো. আবদুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন-শেভরন বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রেসিডেন্ট এরিক এম. ওয়াকার, শেভরনের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক মুহাম্মদ ইমরুল কবির, সামাজিক বিনিয়োগ প্রধান এ কে এম আরিফ আখতার, সুইসকন্টাক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হুসাইন এবং জেডিআরসিএইচ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রোটারিয়ান পিপি ইঞ্জিনিয়ার শোয়াইব আহমেদ মতিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান কৃত্রিম অঙ্গ সহায়তার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল চিকিৎসা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নতুন আশার আলো দেখায়। তিনি বলেন, “শেভরন বাংলাদেশ, সুইসকন্টাক্ট ও জেডিআরসিএইচ-এর সম্মিলিত অংশীদারিত্ব ও দক্ষতা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সক্ষমতা ও আশার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যৌথ প্রচেষ্টার প্রমাণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেভরনের প্রেসিডেন্ট ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এরিক এম. ওয়াকার তাঁর বক্তব্যে শেভরনের কমিউনিটি পার্টনারশিপ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেন, “ বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এ ধরনের বিশেষায়িত সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার পায়। এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক যত্ন নিশ্চিত করে। উপকারভোগীদের প্রতিটি পদক্ষেপই একটি সুন্দর আগামী গড়ার পথে দৃঢ় অগ্রযাত্রা বলে তার মন্তব্য।
সুইসকন্টাক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হুসাইন বলেন, “এই উদ্যোগ কেবল চলাচল সক্ষমতাই ফিরিয়ে দেয়নি, বরং উপকারভোগীদের কাজে ফিরে যাওয়া, শিক্ষা চালিয়ে নেওয়া, সামাজিক জীবনে সক্রিয় হওয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এটি সমাজে অন্তর্ভুক্তি জোরদার করেছে।”
করপোরেট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক মুহাম্মদ ইমরুল কবির বলেন, “তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে শেভরন বাংলাদেশ একটি বিশ্বস্ত জ্বালানি অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। আমাদের অঙ্গীকার কেবল জ্বালানি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। স্মাইল প্রকল্পের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা চলাচল সক্ষমতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। বাংলাদেশে আমাদের কার্যক্রম জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের মধ্যে ৯টিকে সমর্থন করছে-যার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি অন্যতম।”
উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ। দুই উপকারভোগী অনুষ্ঠানে সমস্বরে বলেন, কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহারের ফলে জীবনে তাদেরআমূল পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন হাঁটা চলা করতে পারছেন। এমনকি দৈনন্দিন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন। এজন্য তারা শেভরনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপকারভোগীরা আরো বলেন, এই উদ্যোগের ফলে পারিবারিক আয় স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বৃহত্তর সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এই ধারাবাহিকতায় শেভরন বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট স্মাইল প্রকল্পের মাধ্যমে জীবিকায়ন উন্নয়ন ও টেকসই সামাজিক অগ্রগতিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ও তাদের হাঁটা চলার যন্ত্র-এমন ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে বলে তারা মন্তব্য করেন।




