প্রধানমন্ত্রীর স্মরণীয় সিলেট সফর
সিসিক প্রশাসকের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মারক উপহার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মে ২০২৬, ২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত সিলেট সফর। তার সফরে যেমন নিরাপত্তারক্ষীদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ছিল না, তেমনি প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিটি অনুষ্ঠান্ উপভোগ করেছেন আগ্রহ ভরে। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রতিটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হাজির হন স্বত:স্ফূর্তভাবে। বৃষ্টিস্নাত সকালে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিমান অপারেটর ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সস্ত্রীক ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে পরিবহনের জন্য এটি ছিল রেগুলার (নিয়মিত) বিমান ।
ইউ-এস বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা সৈয়দ বেলায়েত হোসেন লিমন জানান, প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইট নম্বর ৫৩১-এ সিলেটে অবতরণ করেন। গমন করেন ফ্লাইট-৫৩৮এ। বৃষ্টিজনিত কারণে আসার সময় তিনি প্রথমে বিমান থেকে নামেন। যাবার সময় তিনি শেষে বিমানে অবতরণ করেন। রেগুলার এই ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীরাও ভ্রমণ করেন বলে জানান এ কর্মকর্তা। ওসমানী বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ছুটে আসেন দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহে। সেখানে জিয়ারতশেষে স্ত্রী বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা: জোবায়দা রহমানকে নিয়ে ছাতা হাতে বের হবার দৃশ্যটি ব্যাপক ভাইরাল হয় সোস্যাল মিডিয়ায়। বিমান থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ছুটে আসেন চাঁদনীঘাটে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) আয়োজিত সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনশেষে চলে আসেন নগরভবনে। সেখানে সিসিক আয়োজিত সুধী সমাবেশে সিলেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন।
সুধী সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাশেষে প্রধানমন্ত্রী সস্ত্রীক ছুটে যান নগর ভবনে মেয়রের কক্ষে। দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়রের কক্ষে এটাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভিজিট বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী মেয়রের কক্ষটি দেখে-এর প্রশংসাও করেন। এই ভিজিটকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী সস্ত্রীক সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় একটি বিশেষ চিত্রকর্ম উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সিসিক প্রশাসক। ‘প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম’ শিরোনামের এই চিত্রকর্মে প্রধানমন্ত্রীর পিতা-মাতা এবং দাদা-দাদীর সঙ্গে জাইমা রহমানের প্রতিকৃতি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পারিবারিক ঐতিহ্যের এই শৈল্পিক উপস্থাপনা দেখে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী অনেকটা আপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে মূলত নগরকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন। তার স্ত্রী ডা: জোবায়দা রহমানের পূর্ব-পুরুষ এই নগরেরই বাসিন্দা। যে কারণে নগরীর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে তিনি সিসিক প্রশাসককে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সঙ্গে রেখে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কৌশল এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিবিড় আলোচনা করেন। বিশেষ করে সিলেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতি নিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নগর উন্নয়নের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সুরমা নদীর তীর উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া সুপেয় পানির জন্য ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। বাসিয়া খাল খননের মাধ্যমে কৃষি ও সবুজায়নে নতুন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এছাড়া, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত নতুন কুঁড়ির অনুষ্ঠানমালাও প্রধানমন্ত্রী খুব উপভোগ করেন। ৮টি জোনের খেলোয়াড়দের সাথে পরিচিত হতে কর্দমাক্ত মাঠে নেমে পড়েন। সিসিক প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী জানান, সিলেটকে ‘গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুপরিকল্পিত ও আধুনিক সিলেট গড়ার রূপরেখা অদূর ভবিষ্যতে দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফর আর জনসম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সিলেটের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিসিক প্রশাসক।




