জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন
মেধা কাজে লাগিয়ে যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে- দানবীর ড. রাগীব আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ মে ২০২৬, ২:২০:১৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩২ তম ব্যাচের এই ওরিয়েন্টেশনে বক্তারা বলেছেন, চিকিৎসক তৈরির অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ। নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল গতকাল রোববার কলেজ ক্যাম্পাস। মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ছিল নতুন স্বপ্ন আর নব উদ্যমে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।
কলেজের ১ নম্বর লেকচার গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে বক্তারা বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মানব সেবামূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর ড. রাগীব আলী ও তাঁর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী মরহুমা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী মানব সেবার উদ্দেশ্যেই রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়ে মানবিক ডাক্তাররা আজ বিশ্ব পরিমন্ডলে দেশ ও দশের সুনাম বয়ে আনছেন ।
এদিকে গতকাল রোববার সকাল ৯টায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের আয়োজনে জুম প্লাটফর্মে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী সারাদেশে এক যুগে বক্তব্য রাখেন।
পরে স্থানীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের প্রথম বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অসংখ্য শিক্ষা ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী নবীন সদস্যদের স্বাগত জানান।
মানবসেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহ প্রদত্ত মেধার কারণেই তোমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হতে পেরেছ। এই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আগামীদিনের যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে গড়তে হবে। এতে দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে। তেমনিভাবে এই প্রতিষ্ঠান এবং তোমাদের অভিভাবকদের মুখ উজ্জল হবে।
দানবীর ড. রাগীব আলী আরো বলেন, বিশ্বের যে কোন দেশে গেলে পাওয়া যায় এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের। যারা চিকিৎসাসেবায় বিশ্ব পরিমন্ডলে একেকজন শান্তির দূত হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওরিয়েন্টেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম দাউদ, হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. তারেক আজাদ ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ডা. সাইরাস সাকিবা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও এসোসিয়েট একাডেমিক কো অর্ডিনেটর ডা. নুরুল কাইয়ূম মো. মুছাল্লিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আব্দুল হাই বলেন, অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার কারণে এই মেডিকেল কলেজের সুনাম দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. একেএম দাউদ নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসা পেশা সব পেশার চেয়ে আলাদা। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সফলতার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অধ্যাবসায়। এই মেডিকেল কলেজের অন্যতম বৈশিষ্ট ৮শ বেডের হাসপাতাল এবং সুন্দর ক্যাম্পাস।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. তারেক আজাদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেডিকেলে পড়াশোনার যাত্রা খুবই কঠিন নয়, আবার কঠিন। তবে, এ যাত্রাকে আনন্দদায়ক করতে হলে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। তা হলে দেখবে একদিন তোমরা সাফল্যের উচ্চ শিখরে পৌঁছে গেছো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সাইরাস সাকিবা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন থেকে কোন সমস্যা হলে আগে বাবা-মা নয় শিক্ষককে বলতে হবে। নিয়মিত অধ্যাবসায় করতে হবে। দেখবে একদিন সফলতা আসবেই।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা বেগম, অভিভাবকদের পক্ষে ডা. মো. জালাল হোসেন। নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন অনন্যা মেহজাবিন ও মনিস কামরান খান। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেন বলেন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ দেশের শ্রেষ্ঠ ৬টি কলেজের অন্যতম। মেডিকেল পড়াশুনার জন্য এই কলেজকে বেছে নেওয়ায় তিনি অভিভাবকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই কলেজের পড়াশোনার মান বিশ্বমানের। এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে রয়েছে দুজন মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম ও স্বপ্ন। দানবীর ড. রাগীব আলী ও মরহুমা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠান তোমাদের স্বপ্নপূরণে সারথি হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সাদমান রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন মনির মাহমুদ ও আজরা সামিহা সুচি।



