টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮:০৫ অপরাহ্ন
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা ও বিবিয়ানা নদীসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জেলার নদ-নদীর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত জেলার কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান জানান, উজান এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে কুশিয়ারা, খোয়াই, সুতাং, সোনাইসহ জেলার সব নদ-নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (নবীগঞ্জ) স্টেশনে বুধবার বিকেল ৬টায় পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৭৭ মিটার। এ স্টেশনের বিপদসীমা ৮.৫৫ মিটার হওয়ায় বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। তবে ওই স্টেশনেও পানির স্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে কুশিয়ারা নদীর মার্কুলি (বানিয়াচং) স্টেশনে একই সময়ে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৮৬ মিটার। এ স্টেশনের বিপদসীমা ৭.০৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এখানেও পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



