প্রবাসীবান্ধব বিমানসেবা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী
ম্যানচেস্টার-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জুলাই ২০২৬, ৯:১৬:২৯ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পুনরায় চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। আজ রোববার দুপুরে ম্যানচেস্টার থেকে ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট (বিজি ২০৮) সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। অবতরণকৃত যাত্রীদের মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে এবং ৪১ জন ঢাকায় নামেন।
এর আগে, শনিবার ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে সিলেট ছেড়ে যায় বিমানের আরেকটি ফ্লাইট (বিজি-২০৭)। দুপুরে বিমানবন্দরে পৌঁছানো যাত্রীদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
ফ্লাইটের যাত্রীদের শুভেচ্ছা জানানোর পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক উদ্যোগ ও নির্দেশনায় এ রুট পুনরায় চালু হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। সরকার এ রুটের নিয়মিত ও টেকসই পরিচালনায় বদ্ধপরিকর। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য আরও সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে বিমান লিজ (উড়োজাহাজ ভাড়া) নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যার ফলে ভবিষ্যতে এই ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না।
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট-কক্সবাজার রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ কেন্দ্র (রিজিওনাল হাব) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সঙ্গে আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণে সরকার ইতিবাচকভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সিলেটে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। নিরাপদ, আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব বিমানসেবা নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টিই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় মন্ত্রীগণ ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে তারা ম্যানচেস্টার থেকে আগত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। যাত্রীরা ফ্লাইটটি পুনরায় চালু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং নিয়মিত এ সেবা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেক, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটিদের জন্য এই রুটটি শুধু একটি বিমান যোগাযোগ নয়, বরং পরিবার-পরিজন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আবেগের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। ফলে ফ্লাইটটি পুনরায় চালুর খবরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটিদের মধ্যে চরম স্বস্তি, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। রুটটি সফলভাবে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।



