জকিগঞ্জে পাশাপাশি কবরে বাবা-ছেলে সমাহিত, হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ৮:১৪:৪৭ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সন্ধ্যায় মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথিবী ছেড়েছিলেন বাবা ও ছেলে। একদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সদ্যবিবাহিত ছেলে মাসুক আহমেদের (৩৮) মৃত্যু, অন্যদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা আব্দুল লতিফের (৬৭) চলে যাওয়া। একদিন পর সোমবার জোহরের নামাজের পর একই ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হলো তাঁদের জানাজা। পরে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় বাবা-ছেলেকে।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার খিলগ্রাম ঈদগাহে বাবা-ছেলের জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
জানাজার আগে পাশাপাশি দুটি কবর খোঁড়া হয়। একে একে বাবা ও ছেলের মরদেহ সেই কবরে নামানো হয়। জীবনের শেষ ঠিকানাতেও পাশাপাশি রয়ে গেলেন তাঁরা। প্রিয়জনের এমন করুণ বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। উপস্থিত মুসল্লিদের অনেকের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
জানাজা ও দাফনের সময় খিলগ্রাম ঈদগাহ ও আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় উপস্থিত লোকজনও শোকে ভেঙে পড়েন। বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক বিদায়ের দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
মাসুক আহমেদ (৩৮) শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাসুকের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁরও মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্বজনেরা জানান, মাসুকের বিয়ে হয়েছিল অল্প কিছুদিন আগে। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর ছিল অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। জীবনের নতুন অধ্যায়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অকালে থেমে যায় তাঁর জীবন। তাঁর হাতে বিয়ের মেহেদির দাগও তখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি।
বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই খিলগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ছুটে যান। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকও সেখানে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে বাবাও মারা গেছেন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।



